তরুণ চক্রবর্তী- অসমের বাঙালি–অধ্যুষিত বরাক উপত্যকার ৩ জেলায় চারটি পৃথক ভূমিধসের ঘটনায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রবল বৃষ্টির জেরে মঙ্গলবার ভোরে কাছাড় জেলার শিলচরের কাছে জয়পুর, হাইলাকান্দির ভটরবাজার ও মোহনপুর এবং করিমগঞ্জের কালীগঞ্জে ধসে পড়ে বাড়ি। চাপা পড়ে মৃতদের মধ্যে ১১ জনই শিশু ও মহিলা।
জানা গেছে, সোমবার রাত থেকেই প্রবল বৃষ্টি চলছে বরাক উপত্যকায়। বাড়ছে বরাক নদীর জলও। ভোর হওয়ার আগেই ২০ জন বাঙালির মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা উপত্যকা। কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি–‌র আমলে ব্যাপক বনধংশ ও বেআইনিভাবে বালি, মাটি আর কয়লার সিন্ডিকেট চালানোই মানুষের মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হচ্ছে অসম।
সোমবার রাত বারোটা থেকে অসমের বরাক উপত্যকার তিনটি জেলাতেই মুষলধারে বৃষ্টি নামে। মৌসম ভবনের খবর, সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত শিলচরে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১২৫ মিমি। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তপোধীর ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, বহু যুগ পরে শিলচরে এত মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টির জেরে হুহু করে বাড়ছে বরাক নদীর জল। প্রবল বর্ষণের হাত ধরেই কাকভোরে শিলচরের কাছে জয়পুরে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়। তিন পুত্র ও তিন কন্যা–‌সহ এক ব্যক্তি মাটি চাপা পড়ে মারা যান। তঁার স্ত্রী ও এক আত্মীয়কে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা গেছে। তবে  গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, একজন এখনও নিখেঁাজ। হাইলাকান্দি জেলার ভটরবাজারে বাড়ি ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ৫ জন। ওই জেলারই মোহনপুরে মারা গেছেন আরও দু’জন। করিমগঞ্জ জেলার কালীগঞ্জে ধসে মৃত্যু হয় এক পরিবারের ৫ জনের। তঁাদের প্রতিবেশী একজনের দেহও মাটির তলা থেকে উদ্ধার হয়েছে। মোট ৬ জন মারা গেছেন করিমগঞ্জে।
চারটি মাটি‌ধসে ২০ জনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় নেমে আসে শোক। মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল ট্যুইটারে এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে ৩ জেলারই প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের আর্থিক সাহায্য দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বনমন্ত্রী পরিমল শুক্ল বৈদ্য জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারবর্গকে চার লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তবে কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি–‌র আমলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ব্যাপক হারে নষ্ট হওয়াতেই বাড়ছে বিপর্যয়। শিলচরের কংগ্রেস নেতা পার্থরঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ‘‌অসমে বিজেপি–র আমলে অবৈধ ভাবে বন ধ্বংস চলছে। অবৈধ বালি, কয়লা আর কাঠ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই অভিযোগ তো শুধু আমাদের নয়, বিজেপি–‌র বিধায়ক অতুল বরা, দিলীপ পাল, শিলাদিত্য দেবরাও করছেন!‌ তাই প্রকৃতিও প্রতিশোধ নিচ্ছে। মরছেন সাধারণ মানুষ।’‌ শিলচরের সাংবাদিক চয়ন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, রাজ্যের দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা ভোর থেকেই হাত লাগিয়েচেন উদ্ধারকাজে। জেলা প্রশাসনও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।

সারি সারি মৃতদেহ। জয়পুরে। ছবি: আজকাল

জনপ্রিয়

Back To Top