আজকালের প্রতিবেদন, গুয়াহাটি: হিংসা কমলেও আন্দোলন থামছে না অসমে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে অসমের পাশাপাশি বিক্ষোভ চলছে মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ ও ত্রিপুরাতেও। তবে আন্দোলন ঘিরে হিংসার ঘটনা অনেকটা কমেছে। রাজধানী গুয়াহাটি–‌সহ অসমের বিভিন্ন এলাকায় কার্ফু শিথিল করা হয়েছে। তবে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন। সেকারণে ইন্টারনেট পরিষেবা এখনও বন্ধ। থমকে দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় শিলংয়েও এদিন দিনের বেলায় কার্ফু শিথিল করা হয়। 
শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কার্ফু শিথিল হতেই গুয়াহাটিতে দোকান–‌পাট খুলতে শুরু করে। রাস্তায় গাড়ি চলাচল করতেও দেখা যায়। বিভিন্ন দোকানে মানুষ ভিড় করেন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের সন্ধানে। গুয়াহাটি স্টেশনে ভিড় করেন বহু মানুষ। বেশিরভাগ দূরপাল্লার ট্রেন এদিনও বন্ধ রাখা হয়। তবে গুয়াহাটি থেকে ডিব্রুগড় একটি বিশেষ ট্রেন চালায় উত্তর–‌পূর্ব সীমান্ত রেল। রেল সূত্রে খবর, আগরতলা ও শিলচরের সঙ্গে গুয়াহাটির রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। রাজ্য সরকারও কয়েকটি বাস চালিয়েছে শনিবার। 
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (ক্যাব) রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর এখন আইনে পরিণত হয়েছে। অসমিয়া সংবাদ মাধ্যমে তাই ‘ক্যাব’ এখন হয়ে উঠেছে ‘ক্যা’। ক্যা-এর বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে বলে শনিবারও বিভিন্ন সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে। রবিবার অসম জুড়ে প্রতিবাদে শামিল হচ্ছেন অসমিয়া শিল্পী সমাজ। তাঁদের সমর্থন জানিয়েছে আসু, অসম জাতীয়তাবাদী যুব ছাত্র পরিষদ (এজেওয়াইসিপি), সারা অসম তাজই অহম ছাত্র সংস্থা (আটাসু)–‌সহ বিভিন্ন সংগঠন। এদিনও ক্যা–‌র বিরুদ্ধে একগুচ্ছ কর্মসূচিও ঘোষণা হয়। চলে বিক্ষোভ কর্মসূচিও। তবে পুরোটাই শান্তিপূর্ণভাবে। অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ এদিন ক্যা–‌এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়েরের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ক্যা পুরোপুরি অসাংবিধানিক। সর্বোচ্চ আদালত তাঁর মামলা গ্রহণ করেছে। গগৈ ছাড়াও আসু–‌সহ বিভিন্ন সংগঠন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। এজেওয়াইসিপি এদিন গুয়াহাটি প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে জানায়, সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৩৬ ঘণ্টার গণ–‌অবস্থানে শামিল হবে তারা। বুধবার অসমের প্রতিটি গ্রামে বিক্ষোভ সমাবেশের পাশাপাশি ২৪ ডিসেম্বর হবে রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি। তবে সবই হবে দিনের বেলায়। আসু–‌র মতো সন্ধের পর আন্দোলন কর্মসূচি বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করেছে এই সংগঠন। এদিন গুয়াহাটিতে অসমিয়া সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি তোলেন, পুলিশি গুলিচালনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে নিহত তিনজনকে এদিন ‘শহিদ’ হিসাবে বর্ণনা করা হয়। নলবাড়িতে অসমিয়া চিত্রশিল্পীরাও ক্যাব প্রতিবাদে রং–‌তুলি হাতে শামিল হন। গোলাঘাট, জোরহাট, মঙ্গলদৈ প্রভৃতি এলাকাতেও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার কড়া সমালোচনা করেছে আসু। তাদের মতে, কাশ্মীরের মতো এখানেও গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করে কালাকানুন জারি করছে বিজেপি সরকার। ‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top