আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‌যে কোনও পুজোই মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ দূর করে দেয়। সব জাতির মানুষই পুজোর সময় আনন্দে মেতে ওঠেন। আর এই গণেশ চতুর্থী দিয়ে হিন্দুদের পুজোর শুভারম্ভ শুরু হয়ে গেল। কিন্তু এই পুজো শুরু হওয়ার ঠিক কিছুদিন আগে এমন একটি কাণ্ড ঘটল যা সত্যিই নজির হয়ে থাকল সকলের কাছে। কর্নাটকের ছামারাজ নগর জেলা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে এক মুসলিম ব্যক্তি গণেশ মন্দির তৈরি করে সকলকে অবাক করলেন।  
সেচ বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ৬১ বছরের টি রহমান এই মন্দিরটি তৈরি করেন। গত বছর ওই এলাকা থেকে গণেশ মূর্তি চুরি হয়ে যাওয়ায় তিনি খুব ভেঙে পড়েছিলেন বলে জানা যায়। রহমান জানান, তাঁকে স্বপ্নাদেশে এই মন্দির তৈরির কথা জানানো হয়। তিনি বলেন, ‘‌গত বছর কিছু অজ্ঞাতপরিচয় চোর চিক্কাহোল প্রজেক্ট অঞ্চলের পার্ক থেকে ভগবান গণেশের মূর্তি চুরি করে পালিয়ে যায়। আমি এই ঘটনায় খুব হতাশ হয়ে পড়ি এবং গণেশের মন্দির তৈরি করার শপথ নিই। এমনকি এই একই চিন্তা আমার স্বপ্নেতেও আসে। তখনই আমি সিদ্ধান্ত নিই এই মন্দির বানানোর।’‌ ওই এলাকার বাসিন্দারা জানান, ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতীক হলেন টি রহমান। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘‌অন্য সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি হিন্দুদের মন্দির তৈরি করেছে এটা সত্যিই নেতিবাচক দিক। আমরা কখনই একে–অপরের মন্দির–মসজিদ যেতে আপত্তি করি না বা কিছু মনেও করি না। ভারতীয় সংস্কৃতির এটাই সত্যিকারের প্রেরণা।’‌ 
যদিও গণেশ চতুর্থী শুরু হয়ে যাওয়ার পরও এখনও মন্দিরটি খোলেনি। কারণ গণেশ মূর্তিকে ৬ দিন জলের নীচে রাখতে হবে এবং মূর্তিটি শুকিয়ে যাওয়ার পরই তা মন্দিরে বসানো হবে। মন্দির তৈরিতে কত খরচ পড়েছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে রহমান জানান, এটা ভগবানের কাজ।

জনপ্রিয়

Back To Top