আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ বাংলায় জোট নিয়ে আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল কংগ্রেসের অন্দরের ফাটল। বলা ভালো, আরও কদর্য হয়ে উঠল। সিপিএম এবং আব্বাস সিদ্দিকির দল আইএসএফ–এর সঙ্গে জোট এবং সর্বোপরি ব্রিগেডে একই মঞ্চে অবস্থান— এই নিয়ে সোমবার অধীর চৌধুরিকে বিঁধেছিলেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা আনন্দ শর্মা। বলেছিলেন, ‘‌মৌলবাদী’‌ শক্তির হাত ধরে এভাবে আসলে সাম্প্রদায়িকতাকেই মদত দিচ্ছে রাজ্য কংগ্রেস। যা আসলে কংগ্রেসের নীতির বিরোধী। 
এবার সেই নিয়ে পাল্টা আনন্দ শর্মাকে বিঁধলেন লোকসভায় কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি অধীর চৌধুরি। টুইটারে একের পর এক তোপ দাগলেন। বলতে ছাড়লেন না, যে আসলে বিজেপি–র সুরেই কথা বলছেন আনন্দ শর্মা। 
আনন্দ শর্মাকে উদ্দেশ্য করে অধীরের টুইট, ‘‌সিপিএম–এর নেতৃত্বাধীন বামেরা বাংলায় ধর্মনিরপেক্ষ জোট করেছে, যার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হল কংগ্রেস। আমরা বিজেপি–র সাম্প্রদায়িক এবং বিভেদ সৃষ্টিকারী রাজনীতিকে হারাতে বদ্ধপরিকর।’‌ এর পরেই জোটের আসনভাগের বিষয়টি স্পষ্ট করে দিলেন কংগ্রেস সাংসদ। বললেন, ‘‌কংগ্রেস নিজের প্রাপ্য সব আসনই পেয়েছে। বামেরা নিজেদের ভাগের থেকে নতুন গঠিন ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টকে আসন দিয়েছে। সিপিএম–এর নেতৃত্বাধীন জোটকে মৌলবাদী বলার আপনার সিদ্ধান্ত আসলে বিজেপি–র মেরুকরণের অ্যাজেন্ডাই শক্ত করছে।’‌ 
এর পর সরাসরি আনন্দ শর্মাকে আক্রমণ করেছেন অধীর। লিখেছেন, ‘‌যাঁরা বিজেপি–র বিষাক্ত সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়তে চান, তাঁদের অবশ্যই কংগ্রেসকে সমর্থন করা উচিত এবং পাঁচ রাজ্যে প্রচারে নামা উচিত। বিজেপি–র অ্যাজেন্ডা মেনে দলকে হেয় করা উচিত নয়।’‌
প্রসঙ্গত, আনন্দ শর্মাদের সঙ্গে অধীর রঞ্জনের এই বিরোধের সূত্রপাত বেশ কয়েক মাস আগেই। আনন্দ শর্মারা বারবার অতীতে কংগ্রেস হাইকমান্ডের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। ২৩ জন প্রবীণ সোনিয়া গান্ধীকে শীর্ষ নেতৃত্বের কাজকর্মে ক্ষোভ প্রকাশ করে চিঠিও দিয়েছেন। তখন গান্ধী পরিবারের হয়ে ব্যাটন ধরেন অধীর। সেই থেকে তাঁর মতো গান্ধী পরিবার ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে আনন্দ শর্মা, গুলাম নবি আজাদদের। এবার সেই দূরত্ব আরও বাড়ল। নেপথ্যে বাংলার ভোট।  
গত শনিবার ফের প্রকাশ্যে কংগ্রেস নেতৃত্বের সমালোচনা করেন গুলাম নবি আজাদ, আনন্দ শর্মারা। রবিবার প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন আজাদ। সেই নিয়েও কটাক্ষ করেছেন অধীর। বলেছেন, ‘‌কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীদের আবেদন করব, নিজস্ব আরাম, সুবিধার ঊর্ধ্বে উঠুন। প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে সময় নষ্ট বন্ধ করুন। দলকে এবং যে গাছ ছায়া দিচ্ছে তাকে হেয় না করার দায়িত্ব রয়েছে তাঁদের।’‌‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top