আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ পণ দেওয়া কিংবা পণ নেওয়া দুই–ই অপরাধ। কিন্তু জেনেবুঝেও আজও অনেকজায়গা বিশেষ করে গ্রামে–গঞ্জে পণ দেওয়া বা পণ নেওয়ার প্রথা চালু। বড় বড় শহরেও এ ধরনের ঘটনা চলে। কোথাও আবার পণ না দেওয়ায় অত্যাচার সহ্য করতে হয় মেয়েদের। ঘটে গার্হস্থ্য হিংসার ঘটনাও। কিন্তু এই সময়ে দাঁড়িয়েও দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ছত্তিশগড়ে কর্মরত বিএসএফ কনস্টেবল জিতেন্দ্র সিংহ। গত শনিবার রাজস্থানের জয়পুরের অম্বা বাড়ি এলাকার মেয়ে চঞ্চল শেখাওয়াতকে বিয়ে করতে গিয়েছিলেন তিনি। বিয়ের মণ্ডপে বসে ছিলেন। এমন সময় কনের বাবা এসে তাঁর দিকে এগিয়ে দিলেন ১১ লক্ষ টাকা নগদ। কিন্তু কনের বাবার দেওয়া সেই পণের টাকা নিতে অস্বীকার করলেন জিতেন্দ্র। জানিয়ে দিলেন নিতে পারবেন না ওই টাকা। বরের এই আচরণ দেখে হকচকিয়ে গিয়েছিলেন কনের বাবা। অন্যদিকে, হবু শ্বশুরকে জিতেন্দ্র বলেন, তিনি পণ নেবেন না। এরপরই আশীর্বাদ হিসেবে কেবল একটি নারকেল ও ১১ টাকা নিলেন। বরের এই মানসিকতায় মুগ্ধ কনের বাড়ির লোকজন। কনের বাবা গোবিন্দ সিংহ শেখওয়াত বলেন, ‘‌টাকা নিতে অস্বীকার করায় চমকে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম আতিথেয়তায় কোনও ত্রুটি রয়েছে। কিন্তু পরে বুঝলাম জিতেন্দ্র ও তাঁর পরিবার পণের টাকা নেওয়ার প্রবল বিরোধী।’‌ এদিকে, জিতেন্দ্র বলেন, ‘‌আমার বউ এলএলবি ও এলএলএম পাশ করে পিএইচডি করছে। আমার পরিবারের জন্য সে যথেষ্ট ভাল। তাই যখন তাঁকে বিয়ের কথা ঠিক হল সে দিনই আমি ও আমার পরিবার পণ ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। চঞ্চল এখন রাজস্থান জুডিসিয়াল সার্ভিসের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সে যদি ম্যাজিস্ট্রেট হয়, টাকার থেকে সেটা আমার পরিবারের কাছে আরও সম্মানের।’‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top