আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ দু’‌বছর আগে শ্রেষ্ঠ তহসিলদার পুরষ্কার পেয়েছিলেন তিনি। আর এই পুরষ্কার তাঁকে দিয়েছিল তেলঙ্গানা সরকার। কিন্তু তাঁকেই শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হল কৃষকের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ। এমনকী তাঁর বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে মিলল নগদ সাড়ে ৯৩ লক্ষ টাকা এবং ৪০০ গ্রাম সোনার গয়না। যা দেখে চক্ষু চড়কগাছ দুর্নীতি–বিরোধী ব্যুরোর আধিকারিকদের। 
দুর্নীতি–বিরোধী ব্যুরো সূত্রে খবর, ভি লাবণ্য নামে এই মহিলা অফিসার তেলঙ্গানা রাজ্যের রঙ্গারেড্ডি জেলার কেশমপেট এলাকার তহসিলদার বা রেভিনিউ অফিসার ছিলেন। হায়দরাবাদের হায়াতনগর এলাকায় তাঁর বাড়ি থেকে এই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা এবং গয়না উদ্ধার হয়েছে। আয় বহির্ভূত এই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গোপন সূত্রে খবর ছিল, কৃষকদের থেকে ঘুষ নেওয়ার একটা চক্র তৈরি হয়েছে ভূমিরাজস্ব দপ্তরে। সেটা ধরতেই ফাঁদ পেতে ছিলেন দুর্নীতি–বিরোধী অফিসাররা। 
সেই ফাঁদে পা দিয়ে এক কৃষকের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা নিতে যায় গ্রাম রেভিনিউ অফিসার। সেখানে গিয়ে টাকা নিতেই তাকে ধরে ফেলা হয়। তাকে জেরা করেই এই চক্রের মূল নায়িকার কাছে পৌঁছয় দুর্নীতি–বিরোধী অফিসাররা। জমির কাগজপত্র ঠিক করে দেওয়ার নাম করে ৮ লাখ টাকা ঘুষের দাবি করা হয়েছিল। যার মধ্যে ৫ লাখ টাকা যাবে তহসিলদার ভি লাবণ্যের কাছে। আর বাকি ৩ লাখ টাকা যাবে গ্রাম রেভিনিউ অফিসারের কাছে। সেই মতো টাকা পেয়েই এই অফিসার ফোন করে দেন ভি লাবণ্যকে। আর তৎক্ষণাৎ তাকে ধরে ফেলেন দুর্নীতি– বিরোধী অফিসাররা। 
এরপর ভি লাবণ্যের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বিষয়টি একেবারে অস্বীকার করেন। তারপর তাঁর বাড়ি তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে পড়ে আয় বহির্ভূত সম্পত্তির। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। তাঁর স্বামী আবার গ্রেটার হায়দরাবাদ মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের সুপারিনটেন্ডেন্ট। আর এই মহিলা তহসিলদার এবং গ্রাম রেভিনিউ অফিসার কৃষকদের কাছ থেকে জোর করে ঘুষ নিত। এমনই একজন কৃষক অফিসে এসে পায়ে মাথা ঠেকিয়ে লাবণ্যের কাছে এত টাকা ঘুষ দিতে পারবে না বলে অনুরোধ করেছিল। 

জনপ্রিয়

Back To Top