আবু হায়াত বিশ্বাস, দিল্লি: দক্ষিণ দিল্লির জঙ্গপুরার মনমোহন সিং ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি, করোনাকে হারিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন। কারণ বিশ্ব জুড়ে ত্রাসসৃষ্টিকারী করোনায় মৃত্যুর তালিকায় বয়স্করাই বেশি। তাঁর বয়স ৮২। কিন্তু মনমোহন সিং সেই করোনা–যুদ্ধ জয় করলেন। এখন তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ। দিল্লির লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণ হাসপাতাল থেকে মঙ্গলবার ছাড়াও পেলেন। সুস্থ মনমোহন বললেন, ‘‌নতুন জীবন পেলাম।’‌ ১ এপ্রিল করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন জঙ্গপুরার ওই বৃদ্ধ। প্রথম দু’দিন তাঁকে আইসিইউ–তে রাখেন চিকিৎসকেরা। শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টরলের সমস্যা ছাড়াও বার্ধক্যজনিত আরও বেশ কিছু সমস্যা ছিল তাঁর। চলছিল এ সবের ওষুধও। পাশাপাশি ছিল করোনা থেকে দ্রুত সুস্থ হওয়ার লড়াই। শেষমেশ, দ্বিতীয় করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ মেলায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন চিকিৎসক থেকে মনমোহনের পরিবার। আগামী ১৪ দিন গৃহ পর্যবেক্ষণেই থাকতে হবে মনমোহনকে।
হাসপাতাল চত্বরে মনমোহন সিং বলেন, ‘‌মনে হচ্ছে যেন নতুন জীবন পেলাম। চিকিৎসকদের কথা শুনুন। মেনে চলুন সরকারি বিধিনিষেধ। মনের জোর রাখুন। ভয় পাবেন না। সর্বদা ভাববেন, আপনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। এই মনের জোরই করোনা ভাইরাসকে হারানোর অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।’ এদিন হাসপাতাল থেকে ছুটির সময় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীরা হাততালি দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান। লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণ হাসপাতালে এদিন উপস্থিত ছিলেন দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন।
দেশে করোনায় আক্রান্তদের ৮০ শতাংশের বয়স ৬০–এর নীচে হলেও মৃতদের মধ্যে ৬০ বছরের বেশি বয়সিরাই ৬০ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, ইওরোপে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের মধ্যে ৯৫ শতাংশের বয়স ৬০–এর ওপরে। চীন থেকেও একই ধরনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে। সেখানেও মধ্যবয়স্কদের তুলনায় ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১০ গুণ বেশি মৃত্যু হয়েছে বৃদ্ধদের। সেই কারণেই ষাটোর্ধ্ব কোনও ব্যক্তির সুস্থ হয়ে ওঠাটা একটা চমৎকার খবর।
এদিকে, দিল্লিতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একলাখের বেশি করোনা পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। শুধু তা–ই নয়, করোনার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলিতে ব্যাপক হারে করোনা পরীক্ষা করা হবে। এই পরীক্ষার জন্য নিজামুদ্দিন মরকজ এলাকা, দিলশাদ গার্ডেন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে দিল্লি সরকার। এদিনই মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, ‘আমাদের এই অ্যাকশন প্ল্যানে ‌আছে পাঁচটি টি— টেস্টিং, ট্রেসিং, ট্রিটমেন্ট, টিম ওয়ার্ক এবং ট্র্যাকিং। দক্ষিণ কোরিয়া ব্যাপকভাবে করোনা টেস্টিং করছে। আমরাও সেইভাবেই প্রত্যেকের টেস্টিং করব।’‌ দেশে সবথেকে বেশি করোনা–আক্রান্তের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র। তার পরেই দিল্লি। এছাড়াও কেরল, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানায় ব্যাপক আকার ধারণ করেছে এই ভাইরাস। দিল্লির নিজামুদ্দিন–কাণ্ডের পর দ্রুত ছড়িয়েছে করোনা সংক্রমণ।‌

জনপ্রিয়

Back To Top