‌সংবাদ সংস্থা, কানপুর: মুখে চুনকালি পড়ল যোগী আদিত্যনাথের। কানপুরে ভোর রাতে কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে ধরতে গিয়ে খুন আটজন পুলিশই!‌ আহত আরও ৬! মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ শিরা ফুলিয়ে দাবি করেন, তঁার সরকারের ভয়ে নাকি দুষ্কৃতীরা থরহরি কম্প, কোণঠাসা। শুক্রবারের ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে, যোগীর রাজ্য আসলে দুষ্কৃতীদের অবাধ বিচরণক্ষেত্র। পুলিশি অভিযানের গোপন খবর ফঁাস হল কী করে?‌ তবে কি সরষের মধ্যেই ভূত?‌ বেরিয়ে পড়েছে দুষ্কৃতী–ক্ষমতাসীনদের অঁাতাত।
২০০১ সালে শিবলি থানার ভেতর তৎকালীন বিজেপি নেতা সন্তোষ শুক্লাকে গুলি করে মেরেছিল বিকাশ। ৬০টি মামলা তার বিরুদ্ধে। গোপন সূত্রে খবর আসে, ভিকরু গ্রামের বাড়িতে সদলবলে লুকিয়ে আছে বিকাশ। শুক্রবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ হানা দেয় সার্কেল অফিসার দেবেন্দ্র কুমারের নেতৃত্বে ৫০ জন পুলিশের দল। তিনজন সাব–ইনস্পেক্টর, চারজন কনস্টেবলও ছিলেন। পুলিশকে আটকাতে আগেই জেসিবি দিয়ে গ্রামে ঢোকার পথ বন্ধ করে দেয় বিকাশ। বাধা টপকে পুলিশ এগোলে, একটি বাড়ির ছাদ থেকে ঝঁাকে–‌ঝঁাকে গুলি উড়ে আসে। ওই বাড়িতেই প্রায় জনা বারো সঙ্গীর সঙ্গে লুকিয়ে ছিল বিকাশ। গুলির সঙ্গে পাথরবৃষ্টি। খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায়। গুলির লড়াইয়ে সার্কেল অফিসার–সহ আটজন পুলিশ নিহত হন। জখম হন আরও ছ’‌জন। আহতদের মধ্যে দু’‌জনের অবস্থা সঙ্কটজনক। পুলিশের অস্ত্র লুঠ করে পালায় বিকাশ ও তার লোকজন। ধাওয়া করে পুলিশ। একটু এগিয়ে কঁাসিরাম নেভাদা গ্রামের কাছে বিকাশের দুই সঙ্গী প্রেম প্রকাশ ও অতুল দুবেকে নিকেশ করে পুলিশ। নিহতদের কাছ থেকে লুঠ–‌হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াও একে–‌৪৭ রাইফেলের বুলেট উদ্ধার হয়েছে। বেপাত্তা বিকাশ ও তার তিন সঙ্গী।
ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে বিকাশের ওঠাবসা। অজস্র সম্পত্তির মালিক। তেমনই দাপট। পুলিশ খুনে অভিযুক্ত হলেও, বিকাশের ভয়ে স্থানীয়দের মুখে কুলুপ। তাকে দেখার কথাও স্বীকার করছেন না গ্রামবাসীরা। কেউ বলছেন, গুলির লড়াইয়ের সময় তঁারা ঘুমোচ্ছিলেন। কেউ বলছেন, আওয়াজই শোনেননি। কারও কথায়, তখন তঁারা গ্রামের বাইরে ছিলেন। বিকাশের এক নিকট–‌আত্মীয়ার দাবি, গত দু’‌দিন ধরে বাড়ি ফেরেনি বিকাশ। এদিন সকালে পুলিশই তঁাদের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। পরিবারের আরও দু’‌জন বলেছেন, ঘটনার সময় তঁাদের বাড়ির ছাদে কেউ এসে থাকতে পারে, তবে বিকাশ ছিল না।‌

জনপ্রিয়

Back To Top