আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‌আজব নিয়ম বটে। বিধবা হয়েও মাথায় টিপ পরেন আর তাই প্রাপ্য পেনশন থেকে বঞ্চিত করা হল ৭৭ বছরের এক বৃদ্ধাকে। ঘটনাটি ঘটেছে চেন্নাইতে। জানা গিয়েছে, ওই বৃদ্ধা নিজের ছেলে এবং ছেলের বউয়ের সঙ্গে মৃত স্বামীর পেনশন তুলতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সরকারি আধিকারিকেরা তাঁকে অপমান করে পেনশন দিতে চান না। সরকারি আধিকারিরা জানিয়েছেন, বিধবা হয়ে তিনি কী করে মাথায় টিপ পরতে পারেন?
জানা গিয়েছে, চলতি বছরের মার্চে ওই মহিলার স্বামী ৮২ বছর বয়সে মারা যান। বিধবা ওই মহিলা স্বামীর পেনশনের ৭০ শতাংশ টাকা এখনও পেতে পারেন। তাঁর স্বামী পোর্ট ট্রাস্টের ইলেকট্রিকাল ও মেকানিকাল দপ্তরে কাজ করতেন। সংস্থা থেকে বিধবার উপর চাপ দেওয়া হয় পেনশন সংক্রান্ত সব কাজ দ্রুত মিটিয়ে নেওয়ার জন্য। সেই কাজ মেটানোর জন্য মহিলা নিজের ছেলে ও ছেলের বউকে নিয়ে দপ্তরে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে আধিকারিকেরা বৃদ্ধার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং পেনশন দিতে অস্বীকার করেন। হতাশ হয়ে মহিলা বাড়ি ফিরে আসেন। বৃদ্ধার পুত্রবধূ সংবাদমাধ্যমের কাছে বলেন, ‘‌আমরা যখন সংশ্লীষ্ট দপ্তরে যাই তখন পেনশন বিভাগের আধিকারিক ঘুমোচ্ছিলেন। এরপর আমরা যখন ওই আধিকারিককে পেনশনের ফর্ম এবং অন্য দরকারি তথ্য দিই, তখন উনি আমার শ্বাশুড়ির চারমাস আগে তোলা একটি ফটো প্রথমে মনোযোগ দিয়ে দেখেন। ফটো দেখে তিনি বলেন, বিধবা মহিলা টিপ কী করে পরতে পারেন? এরপর ওই আধিকারিক পেনশন দিতে অস্বীকার করেন।’‌ ওই  আধিকারিক বৃদ্ধাকে জানিয়েছেন, টিপ না পরে ফটো তুলে তা দিতে। তিনি এও জানান, বিধবার কপালে টিপ ও চুলে ফুল এসব মানায় না। 
পেনশন বিভাগের আধিকারিকের কাছে এরকমভাবে অপদস্থ হওয়ার পর ওই মহিলা বাড়ি ফিরে যান। পরের দিন নতুন ছবি তুলে তিনি ওই আধিকারিককে দেন। যদিন এরকম কাণ্ডের জন্য মোটেও অনুতপ্ত নন ওই সরকারি আধিকারিক। বৃদ্ধার পুত্রবধূ এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ে অভিযোগ জানাবেন বলে জানা গিয়েছে।   ‌   ‌

জনপ্রিয়

Back To Top