‌আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ৫০ বছর হয়ে গেল। হিমাচলের ‘‌ললনা’–এর চূড়ায় উঠেছিলেন তিন বঙ্গ ললনা। সেই চূড়া এখনও অধরা। তিনজনের মধ্যে দু’‌জন বেঁচে ফিরতে পারেননি। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার একমাত্র সাক্ষী হয়ে বেঁচে ফিরেছিলেন সুদিপ্তা সেনগুপ্ত।
হিমাচল প্রদেশের লাহুল উপত্যকার ২০,১৩০ ফুট উচ্চতার এক পর্বত চূড়া। এর আগে কেউ কখনও সেদিকে পা মাড়াতে সাহস করেনি। এই তিনজন সেখানেই সেই চূড়ার নাম রেখেছিলেন ‘‌ললনা’। ২০১৮ সালে একবার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু সফল হয়নি কেউ। লুকনো বরফের চিড়ের কারণে ১৮,০০০ ফুটের বেশি ওঠা যায়নি। ১৯৭০ সালের আগস্ট মাসে ‌শেফালী চক্রবর্তী, সুজয়া গুহ, সুদিপ্তা সেনগুপ্ত, কমলা সাহা ও আরও দু’‌জন পর্বতারোহী এবং কয়েকজন শেরপা মানালি থেকে রোটাং পাস পেরিয়ে ২০,১৩০ ফুট উচ্চতার দিকে রওনা দিয়েছিলেন। পথে একের পর এক বাধা। আবহাওয়া অত্যন্ত খারাপ থাকায় মৃত্যুর ঝুঁকি ছিল পদে পদে। কিন্তু সমস্ত বাধা অতিক্রম করে সেই দলের থেকে তিনজন মহিলা সুজয়া গুহ, সুদিপ্তা সেনগুপ্ত, কমলা সাহা ও তিনজন শেরপা ২১ আগস্ট ২০,১৩০ ফুট উচ্চতায় উঠতে পেরেছিলেন। কিন্তু নীচে নামার সময়ে প্রাণ হারান সুজয়া গুহ ও কমলা সাহা। সুজয়া গুহের দেহ মেলে। শেষকৃত্য করা হয় কেলংয়ের প্রায় তিন কিমি দূরে তাঁর পছন্দের পাহাড় স্তিন্দ্রিতে। তাঁর ময়না তদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছিল যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গিয়েছেন। সম্ভবত হিমশীতল জলের মধ্যে পড়ে যাওয়ার সময়ে ভয় পেয়ে হার্ট অ্যাটাক হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কমলা সাহার দেহ আজও মেলেনি। ৭৪ বছর বয়সি সুদিপ্তা সেনগুপ্ত সেই অভিজ্ঞতা লিখেছিলেন ফিরে এসে। সমস্ত ঘটনার বর্ণনা দেওয়ার সময়ে তিনি জানালেন সেই পর্বত চড়া শেষমেশ তাঁের জীবনের বড় ট্র‌্যাজেডি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্্তু সেই মুহূর্তের কথাটি যখন বলেন, তখন দু’‌মিনিটের জন্য আপনিও সব ভুলে কল্পনায় ফেরার হয়ে যাবেন। ‘‌ললনা’‌ চূড়ায় ওঠার পর সেই তিনজন যখন ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ–তে সবটা দেখছিলেন, তাঁরা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। জীবন ও মৃত্যু যেন ছোট হয়ে গিয়েছিল। সুতপা সেনগুপ্ত জানান, ‘‌সবটা যেন পৃথিবীর বাইরে। ওপর থেকে ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ–তে সবটা দেখা!‌ আমরা দেখতে পাচ্ছিলাম সবটা!‌ সমস্ত হিমবাহ, সেগুলি গলে গলে হিমশীতল নদীর জন্ম, নীল আকাশ, সব সব!‌ কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমার কাছে কোনও রঙিন ছবি নেই। আমরা সেখানে দেড় ঘন্টা বসে ছিলাম। আমরা কেবল সবকিছুর দিকে তাকিয়ে বসেছিলাম। চুপ করে। হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম।’ 
সেই সুদিপ্তা সেনগুপ্ত সেই অভিযানের একমাত্র জীবিত সাক্ষী। তিনি একজন স্ট্রাকচারাল জিওলজিস্ট। ১৯৮৩ সালে তৃতীয় ভারতীয় অ্যান্টার্কটিক অভিযানে যোগদানকারী প্রথম দুই মহিলা বিজ্ঞানীর মধ্যে একজন ছিলেন ছিলেন। তাঁর বাংলা বই ‘‌অ্যান্টার্কটিক’‌ এখনও বেস্টসেলারের তালিকায়।

জনপ্রিয়

Back To Top