আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ‌দলীয় অন্তর্কলহকে প্রকাশ্যে এনে ফের হাত শিবিরের অস্বস্তি বাড়ালেন অভিজ্ঞ কংগ্রেস নেতা কপিল সিবাল। দলে সাংগঠনিক স্তরে সংস্কারের দাবি তুলে গত বছর আগস্ট মাসে যে ২৩ জন কংগ্রেস নেতা সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি দিয়েছিলেন, তাঁদেরই দেখা গেল জম্মু–কাশ্মীরের একটি দলীয় জনসভার মঞ্চে। ‘‌আরও দুর্বল হচ্ছে কংগ্রেস’‌, সভামঞ্চ থেকে ফের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করে সংগঠনকে শক্ত করে তোলার ডাক দেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কপিল সিবাল। 
সভায় ছিলেন প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ গুলাম নবি আজাদ, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আনন্দ শর্মা, রাজ্যসভা সাংসদ বিবেক তঙ্খা, লোকসভা সাংসদ মণীশ তিওয়ারি, হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যনন্ত্রী ভুপিন্দর সিং হুডা। সিবাল বলেন, ‘‌দল দুর্বল হচ্ছে বলেই আমরা এখানে জড়ো হয়েছি। আগেও এসেছিলাম, সংগঠন মজবুত করতে আবারও এসেছি।’‌ আনন্দ শর্মাও বলেন, ‘‌দলের ভালই চাই আমরা। আবার সব জায়গায় মাটি শক্ত করতে হবে। যুব সমাজকে কাছে টানতে হবে। কংগ্রেস সুদিন দেখেছি আমরা। আমাদের বয়স হচ্ছে বলে কংগ্রেস দুর্বল হয়ে পড়বে, তা আমরা চাই না।’‌ 
সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশ এবং কেরলের ভোটারদের মধ্যে পার্থক্যের প্রসঙ্গ টেনে রাহুল গান্ধী যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে ঘরে–বাইরে সমালোচিত হতে হয়েছে কংগ্রেস নেতাকে। রাহুলের বিরুদ্ধে ‘‌বিভাজনের রাজনীতি’‌র অভিযোগ তুলতে শুরু করেছে বিজেপি। অন্যদিকে রাহুলের মন্তব্যের নিন্দা করতে দেখা গেছে কপিল সিবালকেও। সেই প্রসঙ্গ টেনে এদিন গুলাম নবি আজাদ বলেন, ‘‌জম্মু কিংবা কাশ্মীর কিংবা লাদাখ, যেখানেই হোক না কেন, আমরা সমস্ত ধর্ম–বর্ণের মানুষকেই সম্মান করি। এটাই আমাদের শক্তি এবং এভাবেই আমরা চলব।’‌ 
‘‌বিদ্রোহী’‌ নেতাদের একমঞ্চে একজোট হওয়া নিয়ে দল যে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে, তা অভিষেক মনু সিংভির বক্তব্যেই স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘‌সামনেই পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন। এই সময়ে ওই রাজ্যে গিয়ে কংগ্রেসের মাটি শক্ত করতে পারতেন তাঁরা। জম্মু–কাশ্মীরে যাঁরা সভা করলেন, তাঁরা প্রত্যেকেই দলের অভিজ্ঞ নেতা। আমরা তাঁদের সম্মান করি। তাঁরাও করেন। আমরা একটি পরিবার।’‌ আরও বিতর্ক জনসভায় উপস্থিত এক নেতা বলেন, ‘‌গত বছর ডিসেম্বরে কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে যা স্থির হয়েছিল, তার কিছুই ঘটল না। না নির্বাচন হল, না কোনও সাংগঠনিক সংস্কার হল।’‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top