আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ‘‌ইয়ে লড়নে কি ও অদা হ্যাঁয় তুমহারি, মুঝে বহুত আজিজ হ্যাঁয়। ইয়ে যো বাত বাত পে লড় যাতি হো তুম, ইয়ে লড়তে হুয়ে যো আগে বাড় যাতি হো তুম। মুঝে বহুত পেয়ার আতা হ্যাঁয় তুম পে যব তুম লড়তি হো, মগরুর, বেহুদে, জালিম, ঘাফিল লোগোঁ সে।’‌
আমির আজিজের ‘‌বিলকিস’ গানের ‌এই কয়েকটা পংক্তিতে বিলকিস একজন রণনেত্রী। যে ঝড়ের মতো আসে। লড়াই করে। বিদ্রোহ করে। চোখে অবর্ণনীয় সাহস। মনে পড়েছে?‌ ইনি সেই বিলকিস!‌ ৮২ বছরের বিলকিস। দিনের পর দিন মাথায় একটি ওড়না পরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে গিয়েছেন। শাহিনবাগের মাঠে বসে। কখনও আবার দেখা গিয়েছে, কোলে অন্যের শিশুকে ঘুম পাড়াচ্ছেন তিনি। শান্ত নিবিড়। কখনও আবার মাইক হাতে তুলে নিয়ে ‘‌আজাদি’ বলে চিৎকার করে উঠেছেন। একবারের জন্যেও ৮২ বছরের গলা কেঁপে ওঠেনি। আর তাই ‘‌অপরাধী’‌ বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। আজ সেই বিলকিসের নাম উঠল নরেন্দ্র মোদি, সুন্দর পিচাইয়ের সঙ্গে এক তালিকায়। ‘‌টাইম ম্যাগাজিনের’ তালিকায় ‌‘২০২০ সালের সবথেকে প্রভাবশালী’‌ মানুষদের একজন হিসেবে।‌ ১০০ জনের নামের মধ্যে বিলকিসের পাশাপাশি নাম রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, গুগল কর্মকর্তা সুন্দর পিচাই, ক্লিনিক্যাল মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক রবীন্দ্র গুপ্তা, বলিউড তারকা আয়ুষ্মান খুরানা, ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনের সূচনাকারী অ্যালিসিয়া গারজা, চীনের প্রেসিডেন্ট জিনপিং, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্প প্রমুখের।
কেবল বিলকিস নন, তাঁর সঙ্গে আরও হাজার মহিলা প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন সিএএ বিরোধী আন্দোলনের সময়ে। ম্যাগাজিনে সাংবাদিক রানা আয়ুব লিখেছেন, ‘‌নরেন্দ্র মোদি সরকার দ্বারা মহিলা ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু মানুষদের আওয়াজ দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। যেই সমাজকর্মী ও পড়ুয়ারা সরকারের দিকে আঙুল তুলেছেন, তাঁদেরকেই গারদে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেসব মানুষকে আশা দেখিয়েছেন ৮২ বছরের এই বৃদ্ধা। দেখিয়ে দিয়েছেন, কীভাবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করে সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলে দেওয়া যায়।’ বিলকিস বলেছিলেন, ‘‌যতক্ষণ আমার শিরায় রক্ত বইছে, ততক্ষণ আমি এখানে বসে থাকব। তবেই এদেশের সন্তানেরা সুবিচার ও সমান অধিকারের নিঃশ্বাস নিতে পারবে।’‌
ম্যাগাজিনের এই তালিকায় নরেন্দ্র মোদির নাম অন্তর্ভুক্ত করে সাংবাদিক কার্ল ভিক দেখিয়েছেন, কীভাবে একটা দেশের মুসলিমদের ক্রমাগত আক্রমণ করেছেন নরেন্দ্র মোদি সরকার। সম্প্রীতি ও ঐক্যের জন্যেই ভারতের সুনাম ছিল। কিন্তু মোদি একার হাতে সেই গুণাবলীকে নষ্ট করেছেন। কার্ল লিখেছেন, দেশের প্রায় সমস্ত প্রধানমন্ত্রীই হিন্দু ধর্মালম্বী ছিলেন। কিন্তু মোদিই প্রথম বাকিদের অস্তিত্বটাকে অস্বীকার করেছেন। তাঁর কথায়, দেশের গণতন্ত্রকে গভীর অন্ধকারে নিয়ে গিয়েছেন মোদি।
আয়ুষ্মান খুরানার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, প্রথম বলিউড নায়ক যিনি বলিউডের তথাকথিত ‘‌নায়কোচিত’ আচরণকে ভাঙতে সক্ষম হয়েছেন।‌    
ক্লিনিক্যাল মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক রবীন্দ্র গুপ্তাই প্রথম তাঁর গবেষণায় ‘‌এইচআইভি’ বা ‘‌হিউমান ইমিউনোডেফিশিয়েন্সি ভাইরাস’– এর সন্ধান দিয়েছিলেন।
সুন্দর পিচাই গুগ্‌লকে উচ্চতর মাত্রায় নিয়ে গিয়েছেন। গুগল ড্রাইভ, ম্যাপ, ই–মেল, ইত্যাদির মাধ্যমে বিশ্বকে উপহার দিয়েছেন তিনি।  ‌    

জনপ্রিয়

Back To Top