আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সামনেই লোকসভা নির্বাচন। ২০১৯ সালের সেই নির্বাচনে বিজেপিকে কোণঠাসা করতে অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করল আম আদমি পার্টি। বিরোধীদের ফেডারাল ফ্রন্টে তাঁর দল যাবে না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। অথচ বিজেপিকে দিল্লিতে ধাক্কা দেবে তাঁর দল বলে দাবি করেছিলেন তিনি। কিন্তু কিভাবে?‌ এই প্রশ্নের জবাব সেদিন তিনি দেননি। সোমবার অরবিন্দ কেজরিওয়াল টুইট করে সেই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। তিনি টুইটে লেখেন, ‘‌আমরা সবসময় শুনেছি পিৎজা অর্ডার করলে তা বাড়িতে এসে দিয়ে যায় সংশ্লিষ্ট সংস্থা। এবার থেকে সরকারি নম্বরে ফোন করলে বাড়িতে গিয়ে পরিষেবা দিয়ে আসবে দিল্লির সরকার।’‌ এই উদ্যোগকে তিনি ঐতিহাসিক এবং যুগান্তকারি বলেছেন। যদিও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন লোকসভা নির্বাচনের আগে এটা একটা জনসংযোগ গড়ে তোলার পদক্ষেপ। 
কিন্তু কি কি পরিষেবা পাওয়া যাবে বাড়িতে বসে?‌ মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানাচ্ছেন, মোট ৪০টি পরিষেবা পাওয়া যাবে বাড়িতে বসে। দিল্লিবাসীকে তার জন্য সরকারি অফিসে হত্যে দিয়ে জুতোর শুকতলা খোয়াতে হবে না। শুধু একটি ফোন কলই যথেষ্ট এই পরিষেবা পাওয়ার জন্য। বিয়ের শংসাপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, জলের সংযোগের নথি, পাসপোর্ট সহ–একাধিক পরিষেবা এখন থেকে বাড়িতে বসেই পাবেন দিল্লির নাগরিকরা। 
তবে কি বিনামূল্যে পাওয়া যাবে এই পরিষেবা?‌ কত নম্বরে ডায়াল করতে হবে?‌ মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় সূত্রে খবর, এই পরিষেবার নাম দেওয়া হয়েছে মোবাইল সহায়ক। তার জন্য ফোন করতে হবে ১০৭৬ নম্বরে। আর মোট মূল্যের সঙ্গে ৫০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হবে বাড়িতে বসে পরিষেবা পাওয়ার জন্য। এমনকী নথি বাড়ি থেকে তুলে আনার জন্যও ফোন করলে বাড়িতে এসে তা সংগ্রহ করা হবে। একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করে এই কাজ করা হবে বলে খবর। 
দিল্লি কংগ্রেসের মুখপাত্র পুজা বাহরি বলেন, ‘‌ইতিমধ্যেই ৪০টি পরিষেবার মধ্যে ৩৫টি পরিষেবা অনলাইনে রয়েছে। সেগুলিরই উন্নতি করা হচ্ছে না কেন?‌ আর এই বেসরকারি সংস্থার মানুষের কাছে দায়বদ্ধ কোনওভাবে। এই সংস্থা কী আরটিআইয়ের আওতায় রয়েছে?‌’‌ কংগ্রেস প্রশ্ন তুললেও লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এটা যে জনসংযোগ গড়ে তোলার ভাল পদক্ষেপ তা মানছেন অনেকেই।  ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top