আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করার কারণে ফের মোদি সরকারকে তুলোধনা বিদেশি সংবাদমাধ্যমের। বিশ্বখ্যাত সাপ্তাহিক সংবাদপত্রিকা দ্য ইকোনমিস্টের কভার ছবিতে ভারতকে বলা হল ‘‌অসহিষ্ণু’। এর আগেও অর্থনৈতিক ঝিমুনির কারণে মোদি সরকারের নীতির কড়া সমালোচনা করেছে বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলি। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জী (এনআরসি)–র সমালোচনা করে ‘দ্য ইকোনমিস্ট’–এর বক্তব্য, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে মোদি সরকার। বৃহস্পতিবার নিজেদের সাম্প্রতিক সংস্করণের কভার ছবি টুইটারে পোস্ট করে ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ লেখে, ‘বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর দল বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই ভাগাভাগির দ্বারা মোদি এবং বিজেপি রাজনৈতিকভাবে সাফল্য পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। কেননা ধর্মের ভিত্তিতেই নাগরিকদের ভাগাভাগি করা হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা, ১.৩ বিলিয়ন মানুষের মধ্যে আসল ভারতীয়দের একটি পঞ্জিকরণ করা, যাতে বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করা যায়। বারবার করে আবেগে আগুন লাগিয়ে এই প্রক্রিয়া বহু বছর ধরে চালানো হতে পারে। যা শেষ হবে না, চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে আবার নতুন করে করা হবে।’ কিন্তু দেশে এত সমস্যা থাকতে কেন এসবের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে? দ্য ইকোনমিস্টের ব্যাখ্যা, ‘অর্থনৈতিক ঝিমুনি, বেকারত্ব সমস্যা ইত্যাদি ইস্যু থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই বিভাজন–মূলক নীতি গ্রহণ করছে মোদি সরকার।’
ভারতে বসবাসকারী ২০ কোটি মুসলিম ভয় পাচ্ছে যে প্রধানমন্ত্রী দেশকে হিন্দু রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তুলতে চাইছেন। ‘নরেন্দ্র মোদি পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রকে ভাগ করতে চাইছেন’ নামক শিরোনাম সহ প্রবন্ধটি লেখা হয়েছে এই ম্যাগাজিনে। পাশাপাশি, পত্রিকাতে লেখা হয়, গান্ধীজির ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চাইছে মোদি সরকার। স্বাভাবিকভাবেই বিদেশি ম্যাগাজিনের কটাক্ষ হজম করতে পারেনি বিজেপি। দ্য ইকোনমিস্টকে ‘‌ঔপনিবেশিক মানসিকতা সম্পন্ন’‌ বলে মন্তব্য করে বিজেপি।

জনপ্রিয়

Back To Top