সাগরিকা দত্তচৌধুরি: কিশোর–কিশোরী থেকে তরুণ–তরুণীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। আবার কখনও এমনও দেখা যাচ্ছে ফেসবুকে আত্মহত্যার লাইভ ভিডিও দিচ্ছেন কেউ কেউ। অনেকের কাছে এটা নিছকই আনন্দ উপভোগ করার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। চোখের সামনে মানুষটিকে মরতে দেখেও কেউ এগিয়ে আসছে না বাঁচাতে। সমাজে এটা ক্রমাগত একটা ব্যাধির জায়গায় চলে গেছে। যা অবিলম্বে পরিবর্তন করা দরকার। পরিচিত কোনও মানুষ কোনও কারণে যদি হতাশা, যন্ত্রণায় ভোগেন, তা নিজে থেকে জেনে সমাধানের রাস্তা বের করা প্রয়োজন। আজ, সোমবার ‘‌বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’–এ‌ এমনই পরামর্শ দিচ্ছেন মনোবিদরা।
কারও মধ্যে আত্মঘাতী হওয়ার ইচ্ছে দেখা দিলে, তাঁর সিদ্ধান্ত বদল আনতে বন্ধুর মতো কাজ করছে কলকাতার বিভিন্ন সংস্থা। তাদের স্বেচ্ছাসেবকরা পথেঘাটে, টেলিফোনে, বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, অফিসে গিয়ে কর্মশালার মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে কোনও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে হার না মেনে কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে। ‘‌দি লিভ লাভ লাফ ফাউন্ডেশন’‌–এ‌র বোর্ড অফ ট্রাস্টিস–এর চেয়ারপার্সন আন্না চণ্ডী বলেন, ‘‌মানুষ তাঁর যন্ত্রণা, কষ্ট, দুঃখের কথা দীর্ঘ সময় কারও সঙ্গে আলোচনা না করতে পারলে একটা সময়ের পর সে মারা যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করে। মনে রাখতে হবে আত্মহত্যাই কোনও সমস্যার সমাধান নয়। কোনও হতাশা, কষ্ট থাকলে সোজাসুজি তার মোকাবিলা করতে হবে। এ বিষয়ে সচেতনতা বোধ প্রয়োজন। সব জেনেও সমাজ চুপ করে থাকে। সহযোগিতা করার অভাব ভীষণ বেড়ে গেছে। এটি দূর করা প্রয়োজন। বন্ধুর মতো পাশে থেকে জীবনযুদ্ধে এগিয়ে চলার বিষয়ে বোঝাতে হবে।’
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ শর্মিলা সরকার বলেন, ‘‌এখন আত্মহত্যার ঘটনা ভীষণভাবে বাড়ছে। এটি প্রতিরোধের জন্য উপায় হল সচেতনতা ও সহায়তা। কাউকে হতাশ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে কাউন্সেলিং করানো এছাড়া নির্দিষ্ট কোনও গোষ্ঠীর মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা গেলে কোনও সংস্থার মাধ্যমে সঠিক ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।’‌ ‌‌
লাইফলাইন ফাউন্ডেশন দীর্ঘ ২২ বছর ধরে আত্মহত্যা প্রতিরোধের কাজ করছে। হেল্পলাইন নম্বরের সাহায্যে বিনামূল্যে বন্ধুর মতো বুঝিয়ে মানসিক দিক থেকে সহায়তা দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর বিশ্বে ৮ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয় আত্মহত্যার ফলে। প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন মানুষ আত্মহত্যা করছেন। ২০১৫ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতে ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ৬২৩ জন আত্মহত্যা করেছেন। রিসার্চ বলছে, প্রতিটি আত্মহত্যার ঘটনার জন্য কমপক্ষে ২০টি প্রচেষ্টা রয়েছে, যা সফল হয়নি, হাজারের মধ্যে ১০০ জন আত্মহত্যার কথা চিন্তা করেন।‌

জনপ্রিয়

Back To Top