রাজীব ঘোষ:‌ মেওয়া সবুরেই ফলে। অপেক্ষার ফল মধুরিমা। ফি বছর প্রতীক্ষা তাজ বেঙ্গল থেকে মধুরিমার ডাকের, এবারও এল ইলিশের আবাহন। বাঙালির দুর্গাপুজো যখনতখন হলে কি ভালো লাগবে? ইলিশ রোজ খেলে? কখনও নয়। পুজো আর ১০০দিন বাকি বলে মুঠোফোনে বার্তায় যেমন কাউন্টডাউন, ইলিশের বেলায় ঠিক তাই। তাবড় বারোয়ারির পুজো দেখতে যাওয়ার কারণ যেমন  চমকে যাওয়া, তাজের বেলায় আকর্ষণ ঠিক তেমনই।  
চমক বলে চমক। আমার প্রিয় তিন খানা-কলমচির রান্না করা ইলিশ। ইন্দ্রজিৎ লাহিড়ী, অনিন্দ্য–‌মধুশ্রী আর দেবযানী চ্যাটার্জি আলম।

আমি এক সঙ্গে পাত পেড়ে সাঁটাই আর ওদের কাছে শিখি। পাতে পড়ল দেবযানীর সুক্তো, ইলিশের মাথা আর লেজা দিয়ে। সুক্তো এক অসামান্য ক্লেনজার, অ্যাপাটাইজার। রাঁধুনি মশলার স্বাদে খুলে গেল স্বাদকোরক, গুরুপাক ইলিশের আগে কিছুটা সবজির ভিত দরকার ছিল। ইলিশের ভাজাটি তেল দিয়ে মেখে উল্টেপাল্টে খাই, সুবোধ বালকের মতো, এই একটি রান্নাই যা আমি পারি, অনিন্দ্য আর মধুশ্রী রেঁধেছিল দই-ইলিশ। তোফা। আর কেয়াবাত ইন্দ্রজিৎ, অপূর্ব ইলিশের ভর্তা আরও কয়েকটি পদের পথ প্রশস্ত করলো বইকি। শেফ গিরি হাত চালাচ্ছিলেন দ্রুত, হাজির তাঁর রাঁধা ভাপা ইলিশ।

আড্ডায় হাজির তনুশ্রীশংকর, হাত চলছে, মুখও। ফিরিঙ্গি চচ্চড়ির কথা। ইলিশের গন্ধেই নস্টালজিয়া, ভুরভুর করে বেরিয়ে আসে গল্প। বেড়াল আর বাঙালির কী মিল, মাছ পাতে পড়ছে আর হারিয়ে যাচ্ছে! শেফ গিরির মাস্টারস্ট্রোক এরপর, ইলিশের বিরিয়ানি। বেরেস্তা আর ইলিশের তেলে সুশোভিত, আমোদিত। অধিকন্তু, থুড়ি ইলিশন্তু ন দোষায়।
তাজ বেঙ্গলের সোনারগাঁও আগামী তিনমাস ইলিশের পীঠস্থান, রয়েসয়ে একএকটা পদ চেখে আসার সুযোগ। ইলিশ ডিমের বড়া, ইলিশ মাছের টক, সর্ষে-ইলিশ, ইলিশ-পাতুরি আ-চাখা রইল বলে আক্ষেপ নেই, ইলিশের টেস্ট বলে কথা, লম্বা ইনিংস খেলা যাবে। বড় বারোয়ারির সম্পদ পরিবেশ আর আতিথেয়তা, সোনারগাঁও ঠিক তাই, টিম মধুরিমায় মধুরেন।

জনপ্রিয়

Back To Top