সাগরিকা দত্তচৌধুরি: যত দিন যাচ্ছে বাড়ছে বিষণ্ণ একাকী প্রবীণের সংখ্যা। তাঁদের দুঃখ-কষ্ট-হতাশা-বঞ্চনা-একাকিত্বের ভাগিদার হতে কেউ আর এগিয়ে আসেন না। মানুষ যখন বুড়ো হয় তখন তাঁর পাশে কেউ থাকেন না। তখন সেই মানুষটা আরেকটা মানুষের স্পর্শে ভাল থাকলে তাতে ক্ষতি কি?‌‌ এই ভাবনা থেকে গত তিন বছর ধরে প্রবীণদের ম্যাচ মেকিং নিয়ে কাজ করছে ‘‌ঠিকানা সিমলা’‌ সংস্থা। প্রবীণদের বন্ধুত্ব কিংবা ভালবাসায় দোষ কী? ‌আনন্দ দানের উপায় খুঁজতে গিয়ে এই ভাবনাটা অন্যতম বলে জানান সংস্থার সম্পাদক সোশ্যাল জেরেন্টোলজিস্ট ডাঃ অমিতাভ দে সরকার। সামাজিক বাধা, ভয়, ভুলভ্রান্তি দূর করে সচেতনতার উদ্দেশ্যে রবিবার কলকাতা প্রেসক্লাবে প্রবীণদের নিয়ে একটি আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। যেখানে প্রবীণ–প্রবীণারা নিজে থেকেই একাকিত্বের দাওয়াই খুঁজে নিলেন। অমিতাভ বলেন, ‘‌আমরা প্রবীণদের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে ১০ বছর ধরে কাজ করছি। উদ্দেশ্য একটাই একজন প্রবীণ মানুষ ভালভাবে থাকুক। গত তিন বছর ধরে বন্ধুত্ব করতে শেখাচ্ছি। আমাদের বৃদ্ধাশ্রম রয়েছে। অনেক সদস্যও রয়েছেন। প্রবীণরা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।  আমরা প্রবীণদের নিয়ে ঘুরতে যাই, বিউটি কনটেস্ট করি, ডেটিং ট্যুর করাই, সরকারি কী নীতি রয়েছে এসব নিয়ে সচেতনতার প্রয়াস চালাই। কল্যাণীতে ৩০০ ফ্ল্যাটের সিনিয়র সিটিজেন আবাসন তৈরির কাজ চলছে।’‌ অশোকনগরে ঠিকানা সিমলা রেসিডেন্সিয়াল সিনিয়র সিটিজেন ক্লাব রয়েছে। অংশগ্রহণের জন্য শঙ্কর বসু, মঞ্জু চক্রবর্তী, প্রিয়াঙ্কা দাশ, তাপস সান্যাল–‌সহ ৫৮ জন প্রবীণ–প্রবীণা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মনোবিদরা অংশ নেন। মনোস্তত্ত্ববিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা করছেন এরকম বহু পড়ুয়া অংশ নেন। মনোবিদদের মতে, ভারতে ৬০–৬৪ বছর মানুষের মধ্যে ২৪ শতাংশ মানুষ বিপত্নীক বা বিধবা, অবিবাহিত কিংবা ডিভোর্সি। ৮৮ শতাংশ প্রবীণ বিচ্ছিন্নতার কারণে একাকিত্বে ভোগেন। তার থেকে গ্রাস করছে হতাশা। যে কোনও বয়সেরই মানুষ তার বিপরীত লিঙ্গের মানুষের সঙ্গ পছন্দ করেন। বেঁচে থাকার জন্য অন্যের সাহায্য প্রয়োজন।  লিভ ইন কিংবা বন্ধুত্ব করতেই পারে। বিদেশে এর চল অনেক দিন আগেই হয়েছে। এখানেই বা সামাজিক বাধা কেন আসবে প্রশ্ন প্রবীণদের। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top