আজকালের প্রতিবেদন- বেশি কাজ করলে, ক্লান্ত হয়ে পড়লে, গভীর ঘুমের মধ্যে থাকলে নাক ডাকে। এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। ‘‌নাক ডাকা’‌ আসলে একটি রোগ যাকে বলে ‘‌অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’‌ (‌ওএসএ)‌। নাক ডাকাকে স্বাভাবিক মনে করে থাকেন মানুষ। রোগ হিসেবে মেনে না নেওয়াটা একটা সামাজিক ব্যাধি। যে কারণে ওএসএ সহজে নির্ণয় না হওয়ায় রোগটি দ্রুত চিহ্নিত হয় না। কলকাতায় নিদ্রারোগ সম্পর্কিত এক আলোচনাচক্রে একথা জানান বিশেষজ্ঞরা। 
দুর্গাপুর আইকিউ সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনাসভায় বক্ষ ও নিদ্রারোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ প্রশান্ত কুমার বলেন, ‌‘‌সচেতনতার অভাবে নাক ডাকাকে রোগ হিসেবে  মানুষ মানতে লজ্জা পান।   ওবেসিটি রোগীদের ক্ষেত্রে নাক ডাকা মারাত্মক ক্ষতিকারক। ওএসএ থেকে হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থাকে। নাক ডাকার অর্থ ঠিকমতো ঘুম হচ্ছে না। রাতে ভাল ঘুম না হওয়ায় দিনে বেশি ঘুম আসে, বাসে, ট্রেনে মানুষ ঘুমিয়ে পড়েন, গাড়ি চালাতে গিয়ে ট্রাফিক সিগনালে দাঁড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়ায় প্রায় সময়ই দুর্ঘটনা ঘটে।  ৪০ বছরের পর থেকে বেশি পেলেও এখন শিশুদের মধ্যেও খুব বেশি পরিমাণে পাচ্ছি। সদ্যোজাতদের ক্ষেত্রেও দেখছি। শ্বাসনালিতে বাতাস চলাচলে কোনও কারণে কোথাও বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।  শ্বাস–প্রশ্বাস ভাল না চলায় মাঝে মাঝেই ঘুম ভেঙে যায়।’‌ 
আলোচনায় ছিলেন চিকিৎসক দেবাশিস বসু, দীপঙ্কর দত্ত, অরূপ হালদার। চিকিৎসা নিয়ে তাঁরা জানান, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগীর কেস হিস্ট্রি জানার পর লাইফ স্টাইলে কিছু পরিবর্তন করা হয়। শারীরিক কিছু পরীক্ষা, ওজন কমানো, ধূমপান, মদ্যপান বর্জন, পর্যাপ্ত ডায়েট করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারও ক্ষেত্রে শ্বাসনালির ওপরের অংশে কিছু পেলে অপারেশন করা হয়। কোনও কোনও রোগীর ক্ষেত্রে স্লিপ অ্যাপ মেশিন দেওয়া হয়। মাস্কের মতো ঘুমোনোর আগে মুখে লাগিয়ে নিতে হয়। 

জনপ্রিয়

Back To Top