আজকালের প্রতিবেদন: ‌পথেঘাটে, অফিসে, স্কুলে, কলেজে, গাড়িতে, বাসে, ট্রেনে অনেকেই অনেক প্রয়োজনীয় জিনিস ভুলে ফেলে রেখে যান। কোনও  ছাতা, রুমাল, ফাইল, পার্স, মানি ব্যাগ–সহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ দ্রব্য ভুলবশত রেখে চলে যেতে অনেককেই দেখা যায়। বিশেষ করে অ্যাপ ক্যাবে ওঠার পর অধিকাংশই ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপের মতো বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। যে কারণে গাড়ি থেকে নামার সময় সঙ্গে থাকা জরুরি জিনিসটি নিতে ভুলে যান, মত মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের। কেন এমনটি হয় সেই বিষয়ে অনেকেই ওয়াকিবহাল নন। 
ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সাইক্রিয়াট্রি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রোফেসার ডাঃ শর্মিলা সরকার বলেন, ‘‌ভুলে যাওয়া একটা অসুখ, যার নাম ডিমেনশিয়া। এর বাইরে মানুষ দৈনন্দিন জীবনে যেগুলি ভুলে যান, তার অনেকগুলো কারণ আছে। অন্য কিছু নিয়ে বেশি ভাবলে বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করলে, সামান্য কারণেই অহেতুক চিন্তা করলে, হতাশায় ভুগলে ছোট ছোট বিষয়গুলো অনেকেই ভুলে যান। এছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম না হলে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। অন্য কোনও বিষয়ে বেশি ব্যস্ত থাকলে যেমন মানুষ এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। পথে, ঘাটে, গাড়িতে ফোনে মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপেই বেশি ব্যস্ত থাকেন। ফলে চারদিকে কী হচ্ছে সেগুলি কম খেয়াল করি। কোনও বিষয়ে কেউ কিছু বললে যদি আমরা ঠিকঠাক করে মনঃসংযোগ না দিই, তা হলে সেটি আমাদের মস্তিষ্কে সেভ হয় না। মানুষ যেগুলো গুরুত্ব দেন, সেগুলো সহজে ভোলেন না। কিন্তু যেটা গুরুত্ব দেন না, সাধারণত সেটাই বেশি ভোলেন।’‌ মনোবিদ অনুত্তমা ব্যানার্জির মতে, মাথার মধ্যে অনেক কিছু বিষয় দখল করে থাকলে, তখন নতুন কিছু তথ্য মস্তিষ্কে মনে রাখার ক্ষেত্রে আমাদের সমস্যা হতে পারে। যখন আমাদের অনেকগুলো কাজ সামলাতে হয়, তখন একটা কাজ শেষ করার পর আর একটি কাজে হাত দেওয়া দরকার। এতে কিছুটা হলেও ভুলে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। অতিরিক্ত চাপে আবার ভুলে যাওয়ার মধ্যে ভুলে যেতে চাওয়াটাও থাকতে পারে। তবে এটা সচেতন হয়ে নয়, অবচেতন মনও অনেক কিছু ফয়সালা করে দেয়। সারাক্ষণ মাথায় রাখতে যেটা ইচ্ছে করে না, অবচেতন মন সেটি সাময়িকভাবে ভুলিয়ে দেয়। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top