রাজীব ঘোষ:

অমলিন চীনে খাবারের প্রতি বাঙালির টান। মশলাদার খাবারে আজন্ম অভ্যস্থ রসনা তো, একটু তেলে–ঝালে নিজস্ব ঘরানা তৈরি হয়ে গেছে বঙ্গীয় চাইনিজে। নেহাতই সেদ্ধ, সাদা পানা ক্যান্টনিজের থেকে প্রিয় ঝাল সেঝুয়ান। ওই যে তিব্বতি মোমোর সঙ্গে লাল লঙ্কার সস টাকনায়, টাকরা জ্বলে গেলেও তাই সই। স্বাস্থ্যচিন্তা চমৎকারা, কলকাতায় ইদানীং ইতি–উতি জাপানি ‘‌বোমা’‌ পড়তে শুরু করেছে। জাপানি খানা লেটেস্ট ফ্যাড। পাড়ায় পাড়ায় জাপানি খাবারের রেস্তোরঁা গজিয়ে উঠছে। দেশপ্রিয় পার্ক থেকে রবীন্দ্র সরোবরের দিকে হঁাটা মারলেই দু’‌পাশে অগুনতি খানা–ঠিকানা। মোগলাই–চাইনিজ–লেবাননি, কী নেই!‌ জাপানিও দুখানা,নাকি তিন?‌ লেক রোডে স্টেট ব্যাঙ্কের ঠিক উল্টোদিকে, কোণের বাড়িটার টঙে ‘‌ফুজি’‌– অকৃত্রিম জাপানি, নামেই পরিচয়। ফুজি ফুলের নাম, আগ্নেয়গিরিরও। জাপানি খাবার স্বাস্থ্যকর, আগ্নেয়–ঝাল নেই। তবে ওই যে সবুজ ওয়াসাবি, তবে একটু বুঝে, বেশি গালে পড়লেই ঝঁাঝে ব্রহ্মতালু পর্যন্ত ঝঁাকিয়ে দেবে। কপালে জাপানি ফেট্টি, উদিত সূর্যের দেশের নয়, খঁাটি গোর্খা দীপক শ্রেষ্ঠই শেফ। হাজির করল তোরি কারাগে। ফ্রায়েড চিকেন বল যেমন। বোনলেস। জাপানি সসে মাখিয়ে ঈষৎ ভাজা। দিব্যি স্বাদ। নকলের জন্য চীন খ্যাত বা কুখ্যাত, জাপানিরা ঠিক উল্টো। সব কিছু হওয়া চাই খঁাটি। আমদানি করা উপকরণ ছাড়া জাপানি খাবার রঁাধাই অসম্ভব। ওই যেমন ‘‌ইয়াসাই ইয়াকিসোবা’‌। ব্যাপারটা চীনে নুডলসের মতোই দেখতে। জাপানি নুডল হালকা ভাজা। সোবা হল জাপানি ময়দার নুডল, সঙ্গে যে সস তা কিছুটা অয়েস্টার সসের কাছাকাছি। প্রোটিন, ফাইবার, আয়রন, কার্বোহাইড্রেট, থায়ামিন, ম্যাঙ্গানিজ— সোবা নুডলের গুণ অনন্ত। উস্টারশায়ার সস, অয়েস্টার সস, সয় সস আর কিঞ্চিৎ চিনি মিশিয়ে তৈরি হয় ইয়াকিসোবা। টেরিয়াকি সস তো ইদানীং বাঙালির রসনায় সুপারহিট। স্যুপ, সাশিমি, টেম্পুরা, সুশি– সবই আছে। স্যামন, টুনা, স্ক্যাল্প, চিংড়ি, স্কুইডে সুশি রোল। নিগিরি, মানে রোল না করা ওপেন সুশিও আছে।
চাইলে টুনা কিংবা ইল মাছের রোল। রামেন কিংবা উডন নুডলসও চমৎকার। তংকাৎসু হল পর্ক কাটলেট, তোরু তোরু সস দিয়ে ভাজা স্যামন— মুখ বদলে আর কী চাই। শেষপাতে জাপানি কারি আর ভাত চলতে পারে। সবচেয়ে ভাল যুগলে কিংবা দলবেঁধে যাওয়া, ভাগাভাগি করে চেখে দেখা। একটা ডিশের অর্ডার দিন আর মেনু পড়তে থাকুন। চেখে শেখা, দেখেও শেখা।‌‌‌ ■

জনপ্রিয়

Back To Top