আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‌প্রতিটি সন্তানের জীবনে মা যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তেমনি বাবাও তাঁর সন্তানের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বাবার নিরাপদ হাতের ছায়ায় সন্তানরা নিজেদের সুরক্ষিত অনুভব করে। বাবার হাত ধরেই জীবনে প্রথম হাঁটতে শেখে সন্তানরা। তবে ছেলে সন্তানের চেয়ে, বাবার চোখের মণি হন মেয়েরাই। প্রতিটি মেয়েই চান তাঁর জীবনে ঠিক তাঁর বাবার মতই কোনও পুরুষ সঙ্গী আসুক। পাশাপাশি, ছেলেদের কাছে বাবা হল তাঁদের বন্ধু। যাঁর কাছে সব কিছু মন খুলে বলা যায়। রবিবার ফাদার্স ডে। বাবাদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি কীভাবে এই দিনটি সুন্দরভাবে পালন করবেন, আসুন জেনে নেওয়া যাক।
 

কি উপহার দেবেন বাবাকে?‌
মা–বাবাকে উপহার দেওয়া বা তাঁদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য আলাদা কোনও দিনের দরকার হয় না। আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই মা–বাবার স্থান অনেক ওপরে। তাই প্রতিদিনই তাঁদের সঙ্গে একটু সময় কাটাতে পারলেই তাঁরা সবচেয়ে বেশি খুশি হন। যাইহোক, উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমেই মনে রাখুন আপনার বাবা কী পছন্দ করেন বা বাবার পুরনো কোনও শখ, যা হয়ত কাজের চাপে, আপনার ভবিষ্যত উজ্জ্বল করার জন্য হারিয়ে গিয়েছে। বাবার সেই পুরনো শখকে ফিরিয়ে আনতে সেই অনুযায়ী কোনও উপহার দিন বা তাঁর পছন্দের কথা মাথায় রেখে বাবাকে উপহার দিতে পারেন। তবে উপহার এমন হওয়া দরকার যেটা আপনার বাবা এবং আপনার মধ্যেকার সম্পর্ককে আরও মধুর করে তোলে। 
 

বাবার সঙ্গে সময় কাটান
কাজের জন্য আপনি হয়ত বাবাকে সময় দিতে পারেন না। সেটা হয়ত আপনার বাবাও বোঝেন। কিন্তু এই দিনে চেষ্টা করুন সব কাজকে দূরে সরিয়ে রেখে, আপনার পুরো সময় বাবাকে দেওয়ার। সকাল থেকেই সেই প্ল্যান করতে পারেন। একটু দূরে কোথাও বাবার সঙ্গে চলে গেলেন, সেখানে কাটালেন পুরো দিন। অনেক কথাই হয়ত বাবাকে বলা হয়ে ওঠে না, সেই সব কথা বাবার সঙ্গে একান্তে বসে শেয়ার করুন। বিকেলে একটা কেক নিয়ে আসতে পারেন বাবার জন্য। আপনার জীবনে বাবার স্থান কোথায় তা বোঝানোর জন্য এর চেয়ে ভাল দিন আর নেই। মেয়েদের জন্য বলব, বাবার সঙ্গে এইদিন ক্যান্ডেল নাইট ডিনারে যেতে পারেন। হাল্কা কোনও গানে করতে পারেন ডান্সও। বাবাকে বলুন, আপনি কতটা তাঁকে ভালবাসেন।
 

সারপ্রাইজ দিন বাবাকে
অনেকসময়ই বাবাদের সঙ্গে আমাদের মত পার্থক্য হয়ে থাকে। বয়স যত বাড়ে তত যেন সেই দুরত্ব বেড়ে যায়। আসলে আমরা ভুলে যাই, বাবারা সবসময়ই আমাদের ভাল চান। ফাদার্স ডে–তে তাই বাবাকে সারপ্রাইজ গিফ্ট দেওয়ার কথা ভাবতে পারেন। অথবা বাবা আপনার মধ্যে যে যদি কোনও পরিবর্তন দেখতে চান, সেইদিন নিজের মধ্যে সেই বদল এনে বাবাকে চমকে দিন। বাবাকে খুশি দেখে আপনি নিজেও খুশি হবেন। 

আসলে আমরা যত বড় হয়ে উঠি, ততই যেন মা–বাবাদের থেকে আমাদের দুরত্ব বাড়তে থাকে। আমরা হারিয়ে যাই নিজেদের জগত তৈরি করতে। একে–অপরের মতের মিল যেমন থাকে তেমনি যুগ পরিবর্তনের হাওয়াও লাগে আমাদের গায়ে। যুগের হাওয়ায় তাল মিলিয়ে আমরা অনেকটা পথ এগিয়ে গেলেও, আমাদের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেন না মা–বাবা। কিন্তু সন্তানের বোঝা উচিত, তাঁদের হাত ধরেই পৃথিবীকে চেনার সুযোগ পেয়েছি আমরা। তাই তাঁদের কিছুটা তাঁদের মত করে চললে বরং তাঁরা খুশি হবেন। সবশেষে বলব, মা–বাবার সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য নির্দিষ্ট দিনের প্রয়োজন হয় না। একটু পাশে বসে তাঁদের সঙ্গে সময় কাটালেই তাঁরা অনেকটাই খুশি হবেন। সেই খুশিভরা মুখ কোনও টাকা দিয়ে কেনা যায় না। 

জনপ্রিয়

Back To Top