সাগরিকা দত্তচৌধুরি: বছর বাইশের রণিত কর্মকারের কিছু ভাল লাগে না। কোনও কাজে উৎসাহ নেই। মনের মধ্যে নেতিবাচক ভাবনা। এতটাই হতাশা, যে বেঁচে থাকার ইচ্ছেও নেই। শহরে এক মনোবিদকে এমনই জানিয়েছেন তিনি। 
রণিত একা নন। তাঁর মতো আছেন আরও অনেকে। এ এক ধরনের মানসিক ব্যাধি। তাঁদের জন্য দাওয়াই দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কায়িক শ্রম। সেই অনুশীলনে হতাশাকে পরাস্ত করা সম্ভব বলে তাঁদের অভিমত। যার মধ্যে অন্যতম হল তাইকোন্ডো বা ক্যারাটে।
তাইকোন্ডোর ‘‌হল অফ ফেম‌ গ্র‌্যান্ডমাস্টার’ প্রদীপ্ত কুমার রায় জানাচ্ছেন, ‌তাইকোন্ডো ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটায়। ব্রিদিং এক্সারসাইজে স্ট্রেসকে মুক্তি দেয়। শরীর ও মনের ভারসাম্য রক্ষা করে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাপত্র বলছে, তাইকোন্ডো নিজের স্বভাব, আচার–আচরণের মধ্যে সততা, বিশ্বাস, আধ্যাত্মিক চেতনা জাগায়। আত্মসংযমী হতে শেখায়। প্রশিক্ষণ পদ্ধতির মধ্য দিয়ে চরিত্রের বিকাশ ঘটায়। আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। এখানেই অন্য খেলাধুলোর সঙ্গে তফাত তাইকোন্ডোর। বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়েরা অনেকেই তাইকোন্ডোর সঙ্গে যুক্ত। প্রদীপের কথায়, ‘তাইকোন্ডো শারীরিক কার্যকলাপের সঙ্গে সঙ্গে মনের সংযুক্তিকরণও ঘটায়। চিন্তা কখনওই দূর করা যায় না। কিন্তু সেটা নিয়ন্ত্রণের জন্য তাইকোন্ডো শারীরিক,  মানসিক দু’‌দিক থেকেই আমাদের শক্তিশালী করে। শারীরিক অসুস্থতা দূর করতেও ওষুধের মতো কাজ করে।’    
তাইকোন্ডোর অপর ‘‌হল অফ ফেম’‌ প্রাপক মাস্টার রুমা রায়চৌধুরিরও বক্তব্য, 
‘হতাশা বা স্ট্রেস সেটা আমাদের মধ্যেই তৈরি হয়। সেটা নিজেদেরই কাটাতে হবে। তাইকোন্ডো মানসিক এবং শারীরিক দু’টি দিককেই প্রভাবিত করে ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটায়। তাইকোন্ডো যে নীতির ওপর দাঁড়িয়ে বা প্রশিক্ষণের সময় যে বিষয়গুলির মধ্যে দিয়ে এগোতে হয়, সেগুলিই পার্থক্য তৈরি করে। তাইকোন্ডো আত্মবিশ্বাস তৈরি করে। আমি পারব না— এই জায়গাটা থেকে বেরিয়ে আসার রাস্তা দেখায়।  প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে মনের একাগ্রতা বাড়ে।’ 
প্রসঙ্গত, রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজগুলিতেও তাইকোন্ডো প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। সরকারি হাসপাতালের তাইকোন্ডোর ‘স্টেট নোডাল অফিসার’ এনআরএসের ডেপুটি সুপার দ্বৈপায়ন বিশ্বাস যেমন জানাচ্ছেন, তাইকোন্ডো সহজে হতাশা দূর করে। মেডিটেশনের মতো প্রশিক্ষণ পদ্ধতি পজিটিভ ভাবনার শক্তি বাড়াতে আলাদা অক্সিজেন জোগায়। তাইকোন্ডো করলে শরীর থেকে এন্ডরফিন হরমোন নিঃসৃত হয়। যার ফলে মন উৎফুল্ল থাকে।’‌
‘ক্যারাটে অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলে’র সভাপতি ক্যারাটে মাস্টার ‘‌হানসি’‌ প্রেমজিৎ সেনের মতে, যাঁরা ক্যারাটে বা তাইকোন্ডো শিখবেন, তাঁদের ‌ভয় থেকে না পালিয়ে তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে অনুপ্রাণিত করতে হবে। কেউ আঘাত করলে তার প্রতিবাদ করতে হবে। ক্যারাটে শেখানো হয় বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য। যা অভ্যাসে পরিণত হলে মনে একদিকে ইতিবাচক ভাবনা তৈরি হয়। অন্যদিকে প্রতিকূলতা জয় করতে শেখায়।’ 

কেন মার্শাল আর্ট: 

• প্রশিক্ষণে শরীর–মনের সংযুক্তি হয় 
• আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করে 
• আত্মরক্ষা করতে শেখায় 
• মন উৎফুল্ল রাখে
• মনঃসংযোগ বাড়ায়
• শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে শেখায় ‌
• যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাহায্য করে‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top