আজকাল ওয়েবডেস্ক: পুরো সাদা চুল-দাড়ি। স্টাউট বডি ল্যাঙ্গুয়েজ। আত্মবিশ্বাস নিয়ে যেভাবে তিনি র‌্যাম্পে হাঁটেন, তাতে মুগ্ধ হওয়ারই মতো। তিনি দীনেশ মোহন। 

কথায় বলে, জীবন নাকি শুরু হয় চল্লিশের পর! আক্ষরিক অর্থে প্রমাণ করলেন মডেলিং ওয়ার্ল্ডের জনপ্রিয় মুখ দীনেশ মোহন। নিজের জীবনের কাহিনি সম্প্রতি 'হিউম্যানস অফ বম্বে'তে শেয়ার করেছেন দীনেশ। যে পোস্টটি রীতিমতো ঝড় তুলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। 

তখন তাঁর ৪৪ বছর বয়স। জীবনের দুর্বিষহ অধ্যায় কাটাচ্ছেন। প্রিয়জনকে হারিয়ে মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন, যে একেবারে চুপচাপ হয়ে গিয়েছিলেন দীনেশ। তাঁর বোন সাইকিয়াট্রিস্টের কাছেও নিয়ে যান তাঁকে। দীনেশ জানান, সেসময় সারাদিন ফ্রিজ খুলে খাবার খেতেন। তখন তিনি ১৩০ কেজির দীনেশ মোহন। এতটাই ওজন বেড়ে গিয়েছিল যে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ানোর সময় কারও উপর ভর দিতে হত তাঁকে। 

কোনও কাজেই তাঁর মন লাগত না। কিচ্ছু করার ইচ্ছেও হত না। হঠাৎ একদিন এক আত্মীয় বলে ওঠেন, "কিছু তো কর! তুই কি বিছানায় শুয়ে থাকতে থাকতেই মরে যেতে চাস!" দীনেশ জানান এই কথাটাই নাকি তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। 

নিজে থেকেই ডায়েটেশিয়ানের কাছে যান। প্রতিদিন এক্সারসাইজ করতে করতে, পুরনো আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছিলেন দীনেশ। তিনি এও জানান, দীর্ঘদিন কসরতের পর এতটাই রোগা হয়ে গিয়েছিলেন, যে তাঁকে দেখে কেউ চিনতে পারছিলেন না। 

দীনেশের এক বন্ধু, যিনি এক নামকরা ফ্যাশন ম্যাগাজিনে কাজ করেন, হঠাৎ না জানিয়েই পোস্ট করেন দীনেশর 'আগে-পরে'র ছবি। সেই ছবি দেখেই ফটোগ্রাফার থেকে শুরু করে মডেলিং এজেন্সির লোকেরা ফোন করতে শুরু করেন তাঁকে। দু'একটা ফটোশ্যুটের পর র‌্যাম্পে হাঁটা, এবং পরবর্তীতে সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন দীনেশ। তাঁর কথা মত, একেবারে হাঁটতে না পারা থেকে তাঁকে র‌্যাম্পে হাঁটতে দেখে পরিবারের সকলে থ হয়ে গিয়েছিলেন। পঞ্চাশ বছর বয়সে নতুন করে বাঁচতে শুরু করলেন তিনি। পোস্টটি যেমন ভাইরাল হয়েছে, তেমনই সব প্রজন্মের মানুষকে দীনেশ যেভাবে অনুপ্রাণিত করলেন, তাতে তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হচ্ছেন সকলে। 

Back To Top