আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ খাবার অনেক। তেমন তার নামও। এলাকা পাল্টায়, খাদ্য রসিক পাল্টায়, পাল্টে যায় রেসিপি, জন্ম নেয় নতুন খাবার। তেমনই সেই সুস্বাদু খাবারের জন্মের সঙ্গেই জুটে যায় নতুন নাম। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যলয়ে ঘুরলে এমন একাধিক খাবারের দোকান পাওয়া যাবে, যেখানে আছে হরেক রকম নতুন খাবার। এমনিতেই যাদবপুর আলাদা, অনেক কিছু থেকেই আলাদা। খাবারের তালিকাতেও সে পিছিয়ে থাকে কেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের দিকে রয়েছে বিখ্যাত মিলন’‌দার ক্যান্টিন। সকাল থেকে রাত সেখানে পড়ুয়ার ভিড় লেগেই থাকে। আর সেখানেই দীর্ঘদিন ধরে বিক্রি হয় ‘‌ঢপের চপ’‌।
আমাদের বন্ধু, ইয়ার দোস্তদের মধ্যে অনেকেরই কথা বাড়িয়ে বলার অভ্যাস থাকে। বাংলা কথায় যাকে বলে ‘‌ঢপ মারা’‌। আর সেই ঢপ বা মিথ্যা নানা কথাকেই আমরা ‘‌ঢপের চপ’‌ বলে উড়িয়ে দিয়ে থাকি। কিন্তু সেই প্রবাদের নামেই এক খাবারের নাম হয়েছে যাদবপুরে। তবে এই খাবারে বিশেষ কিছু নেই। পাঁউরুটির মধ্যে থাকে মাংসের তরকারি, আর তাকে বেসনে মুড়ে ভেজে ফেলা হয়। উত্তর কলকাতা বা মফঃস্বলের একাধিক দোকানে যেটিকে পাউরুটির চপ হিসাবে বিক্রি করা হয়, তার নামই যাদবপুরে ‘‌ঢপের চপ’‌। কিন্তু এই নামের জন্ম কোথায়?‌ সে উত্তর বোধহয় কেউই এখন স্পষ্ট করে দিতে পারবেন না। যেমন, ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির কাছে যে ক্যান্টিন আছে, তাতে পাওয়া যায় এই বিশেষ খাবার। সেটির নাম জি–৪। মানে, একটি স্যান্ডুইচ, যার বাইরের আবরণ মিলিয়ে মোট পাঁচটি স্তর থাকে। সাধারণত, পাঁচতলা বাড়ির নীচের তলা ধরে আমরা সেটিকে ইংরাজিতে G+4 ‌বলে থাকি। শোনা যায়, সেই সূত্র ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্ররা এই নামটি দিয়েছিলেন। 
কিন্তু এই লেখার সমস্ত তথ্যই তো অনুমান। আমরা অনেক সন্ধান করেও এই দুই নামের উৎস সম্পর্কে তর্কহীন তথ্য পাইনি। তাই যাদবপুরের যে পড়ুয়ারা এই লেখাটি পড়বেন, তাঁরা আমাদের তথ্য দিয়ে সমৃদ্ধ করতেই পারেন। তবে, এই খবর লেখার দাবি একটাই। যদি ঢপের চপ শোনার বদলে কেউ ঢপের চপ খেতে চান, তাহলে তাকে যেতেই হবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ার্ল্ডভিউ চত্ত্বরের মিলনদার ক্যান্টিনে। 

ঋণ:‌ সম্প্রতি এই নিয়ে একটি পোর্টালে লিখেছেন সুমন সাধু। তাঁর লেখা আমাদের এই লেখার অণুপ্রেরণা।     ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top