আজকালের প্রতিবেদন: ভারতে শিশুদের ওজনবৃদ্ধির প্রবণতা বাড়ছে। ২০১৫–য় দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন–এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, এ দেশে ১ কোটি ৪৪ লক্ষ শিশু আছে যাদের ওজন বেশি। এ ক্ষেত্রে বিশ্বে চীনের পরেই ভারতের স্থান। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আরেকটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের স্কুলপড়ুয়া শিশুদের ৬ থেকে ৯ শতাংশ অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছে। শিশুদের উচ্চতা অনুযায়ী ঠিকঠাক শারীরিক ওজনের জন্য প্রাণিজের পাশাপাশি সমমাত্রায় উদ্ভিজ্জ প্রোটিনও খেতে হবে।
শিশুদের বৃদ্ধি এবং শারীরিক উন্নতিতে প্রোটিনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কোষের গঠন থেকে শুরু করে তার কার্যকারিতা এবং শরীরের নানান ‘‌টিস্যু’ এবং ‌অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গঠনের ক্ষেত্রে প্রোটিনের গুরুত্ব অপরিসীম। শরীরের বৃদ্ধি শিশু বয়সেই দ্রুত হয়। বেড়ে ওঠার মাঝামাঝি সময় এবং বয়ঃসন্ধিতে পর্যাপ্ত প্রোটিনের সরবরাহ থাকা খুবই জরুরি। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউট্রিশন (‌এনআইএন)‌ শিশুদেরকে বেশি করে প্রোটিন খাওয়ানোর পক্ষপাতী। রোজকার প্রয়োজনীয় ‘‌অ্যামাইনো’ অ্যাসিড জোগানের জন্য তারা বাজরা, বিভিন্ন খাদ্যশস্য এবং ডাল খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে। ৭ থেকে ৯ বছর বয়সি যেসব শিশুদের গড় ওজন ২৫.‌১ কেজি তাদের দৈনিক ২৯.‌৫ গ্রাম প্রোটিন খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ ওবেসিটি (‌২০১৮)‌–র সমীক্ষা অনুযায়ী শিশুদের সুষম ওজনের জন্য প্রাণিজের চেয়ে জৈব প্রোটিন অনেক বেশি উপকারী। সমীক্ষাটি করা হয়েছে ৮ থেকে ১০ বছরের শিশুরা কে কতটা উদ্ভিজ্জ এবং প্রাণিজ প্রোটিন গ্রহণ করে এবং তাদের শারীরিক গঠনে তার কী প্রভাব পড়ে তার ওপর। সমীক্ষাটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শিশুকাল এবং বয়ঃসন্ধির খাদ্যাভ্যাসই পরবর্তী জীবনে সুস্থ সবল থাকার চাবিকাঠি।
উদ্ভিজ্জ প্রোটিনে উপকৃত হবেন বড়রাও। আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন–এর মতে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন মধ্য এবং বৃদ্ধ বয়সে মাংশপেশির সক্ষমতা ধরে রাখে। চল্লিশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের মাংশপেশির গঠনে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন প্রয়োজন। এই প্রোটিন হৃদ্‌রোগের ঝঁুকি কমায়। এ বিষয়ে সিএমআরআই–এর মুখ্য খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ঈপ্সিতা চক্রবর্তীর মতে, উদ্ভিজ্জ প্রোটিনও প্রাণিজের মতো সম গুণসম্পন্ন  এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন।‌

জনপ্রিয়

Back To Top