আজকালের প্রতিবেদন—গর্ভাবস্থা থেকেই মায়েদের এবং শিশুর জন্মের পর থেকেই ঠিকমতো পুষ্টিগুণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে স্তনদুগ্ধ পান করানো জরুরি। শিশুর ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শুধুই স্তনদুগ্ধ, তারপর অন্য খাবারের পাশাপাশি ২ বছর টানা খাওয়াতে হবে। বৃহস্পতিবার কলকাতায় ইউনিসেফের উদ্যোগে ‘‌মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য’‌ বিষয়ক আয়োজিত কর্মশালায় এ কথা জানান পুষ্টিবিদ–সহ চিকিৎসকরা। ব্রেস্টফিডিং প্রোমোশন নেটওয়ার্ক অফ ইন্ডিয়ার তরফে ডাঃ পার্বতী সেনগুপ্ত জানিয়েছেন,‘‌সন্তানের বৃদ্ধিতে, স্বাস্থ্য ভাল রাখতে, রোগ প্রতিরোধে নির্দিষ্ট পরিমাণে পুষ্টিগুণ খাদ্যের মাধ্যমে শরীরে সরবরাহ হওয়া জরুরি। আবার সন্তানকে বেশি করে খাওয়ালেই যে স্বাস্থ্য ভাল হবে, এরকম ধারণাও ভুল।’‌ পুষ্টিবিদ ফারহিন খুরশিদ বলেন, ‘‌শুধু খাবার খাওয়া মানেই ভাল পুষ্টি হবে, এমন ধারণা ভুল। বিভিন্ন খাদ্যের মাধ্যমে শরীরে ডায়েটের ভারসাম্য বজায় রাখাই হল আসল পুষ্টিগুণ। ব্যালেন্স ডায়েট বলতে বোঝায় শরীরে কার্বোহাইড্রেট, আয়োডিন, জিঙ্ক, আয়রন, মিনারেলস, ভিটামিন, ফ্যাট, ক্যালশিয়াম এই সমস্ত কিছু খাদ্যের মাধ্যমে শরীরে জোগান হবে। তা যে খরচ সাপেক্ষ তা নয়, ডাল, ভাত, সবজি, ফল, দুধ, ডিমের মধ্যেই অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে।’‌ অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ হাইজিন অ্যান্ড পাবলিক হেল্‌থের ডিন ডাঃ মধুমিতা দুবে বলেন, ‘‌কী ধরনের খাবার খাবে তা মায়েদের ভাল করে বোঝাতে হবে। শিশুদের যেখানে–সেখানে মলত্যাগ না করিয়ে শৌচাগারের ব্যবহার শেখানো নিয়ে সচেতনতা জরুরি।’‌ ইউনিসেফের পশ্চিমবঙ্গের প্রধান অফিসার মহম্মদ মহিউদ্দিন বলেন,‘‌জন্মের পর যেমন টিকাকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গর্ভাবস্থায় মায়েদের সবরকম পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া দরকার। নইলে পুষ্টির ঘাটতি দেখা যাবে সদ্যোজাতর মধ্যে।’‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top