আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ গর্ভাবস্থায় আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে পর্যটন রাজ্য কেরলে। গত চার বছরের নিরিখে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত কেরলে মোট ১৫ জন মহিলা গর্ভাবস্থায় আত্মহত্যা করেছেন। যেখানে সন্তানের জন্ম দেওযার আগে ও পরে কেরলে গড়ে ৪২ জন মহিলা মারা যান। এই পরিসংখ্যান সামনে আসায় চোখ কপালে উঠেছে কেরল সরকারের। 
এখানেই উদ্বেগের শেষ নয়। দেখা যাচ্ছে, গত ৮ মাসের মধ্যে প্রতি মাসে দু’‌জন করে গর্ভবতী মহিলা আত্মহত্যা করেছেন। কেরল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে আম্মা মানস প্রকল্প শুরু করা হয়েছে। যার প্রধান লক্ষ্যই হল গর্ভাবস্থায় আত্মহত্যা থেকে রক্ষা করা গর্ভবতী মহিলাকে। কিন্তু এমন হচ্ছে?‌ সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, সঠিক বয়সের আগে গর্ভবতী হওয়া, অবিবাহিত অবস্থায় গর্ভবতী হওয়ার ফলে বেড়েছে গর্ভাবস্থায় আত্মহত্যার ঘটনা।
গর্ভাবস্থায় প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ১৬ জন এবং সন্তান প্রসবের পর প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ২০ জনের এই সমস্যা হয়। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, গর্ভাবস্থায় মায়ের বিষণ্ণতা এবং উদ্বেগজনিত রোগ থাকলে প্রিম্যাচিউর বেবি অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সন্তান জন্ম নিতে পারে আবার তাদের জন্মকালীন ওজনও কম হতে পারে যা পরবর্তীকালে ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে এই রোগটি এতটা তীব্র হয় যে, মা আত্মহত্যা করে ফেলেন অথবা করার চেষ্টা করেন। আবার কখনও নিজের সন্তানের ক্ষতি করার চিন্তা করেন, সন্তানকে আঘাত করেন, মেরেও ফেলেন। এই ঘটনা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, আগামী ২৯ ডিসেম্বর কনফিডেনশিয়াল রিভিউ অফ ম্যাটারনাল ডেথস কমিটির বৈঠক বসছে। সেখানে চুলচেরা বিশ্লেষণ হবে বলে খবর। 

জনপ্রিয়

Back To Top