আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ বেলা গড়াতেই ছড়িয়ে পড়েছিল খবরটা। লকডাউন চলা অবধি মদের হোম ডেলিভারি পাওয়া যাবে। রাজ্যবাসী স্থানীয় মদের দোকান কিংবা, বার, রেস্তোরাঁ, হোটেল থেকে মদের অর্ডার করতে পারবেন। শোনা গিয়েছিল, বেলা এগারোট থেকে দুপুর দুটো অবধি ফোনেই দেওয়া যাবে অর্ডার। দোকানে কারও আসার দরকার নেই। আর দুপুর দুটো থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ক্রেতার বাড়িতে পৌঁছে যাবে মদ। কিন্তু বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামতেই সুরা রসিকদের যাবতীয় আনন্দ মাটি হয়ে গেল। 
কলকাতা পুলিশের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই মুহূর্তে মদের হোম ডেলিভারি চালু করা হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলার অবনতির কথা ভেবেই কলকাতা পুলিশের তরফে অর্ডার তুলে নেওয়া হয়েছে। 
দুপুরের দিকে অবশ্য এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য আবগারী ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, এরকম কোনও নির্দেশ দপ্তরের তরফে তাদের কাছে আসেনি। আর সন্ধে নামতেই যাবতীয় জল্পনার হল অবসান।
আগামী ১৪ এপ্রিলের পর লকডাউন উঠছে না। বুধবার সর্বদলীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। অর্থাৎ মানুষকে ঘরবন্দি থাকতে হবে। করোনা আতঙ্কে মানুষ দিশেহারা। খুব প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বেরোতে নিষেধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তবে এতদিন ঘরে বসে থাকতে থাকতে মানুষজন হাঁপিয়ে উঠেছেন। সবাই ন্যূনতম বিনোদনের রসদ খুঁজছেন। আর সেই রসদ জোগাতে মদ্যপানই যে সেরা উপায়, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
গত ১ এপ্রিল থেকেই একটা গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। সারা রাজ্যে কিছুক্ষণের জন্য নাকি মদের দোকান খোলা থাকবে। তাই আশায় বিভিন্ন মদের দোকানের সামনে ভিড় জমিয়েছিলেন সুরা রসিকরা। কিন্তু একটার পর একটা দিন চলে গেছে। আর সুরা রসিকরা বিমর্ষ হয়ে পড়েছেন। কারণ মদের দোকান আর খোলেনি। অনেকেই কালোবাজারি করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই কালোবাজারেও এখন ‘‌স্টক’‌ শেষ। তাই মদের দোকান ছাড়া মদ পাওয়া সম্ভব নয়। এরই মাঝে বুধবার আচমকা খবরটা ছড়িয়ে পড়েছিল। মদের হোম ডেলিভারি পাওয়া যাবে। বিভিন্ন সূত্র থেকে মানুষজনের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা আসতে শুরু করে। কিন্তু সন্ধে নামতেই যাবতীয় উত্তেজনায় ভাটা পড়ে যায়। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, কোনও অবস্থাতেই এখন মদের হোম ডেলিভারি সম্ভব নয়। এই খবর শোনার পরেই ফের অন্ধকার নেমে এল সুরা রসিকদের মনে। 
  

জনপ্রিয়

Back To Top