আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃদ্ধি পেল রাজ্যে লকডাউনের মেয়াদ। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি স্পষ্ট ঘোষণা করে দিলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করে রাজ্যে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হল ৩১ মার্চ পর্যন্ত। যা কি না এদিন বিকেল পাঁচটা থেকেই কার্যকর হচ্ছে। এদিন মমতা বলেন, পরিস্থিতির অস্বাভাবিকতাকে লক্ষ্য করে আজ বিকেল ৫ টা থেকে সর্বত্র রাজ্যের সর্বত্র লকডাউন। ৩১ মার্চ পর্যন্ত থাকবে এই লকডাউন। কেস স্টাডি করে দেখলাম, এক লক্ষ মানুষকে আক্রান্ত করতে করোনা ভাইরাস ৬৭ দিন টাইম নেয়। পরের একলক্ষ মানুষকে আক্রান্ত করতে ৪ দিন সময় নেয়। আর তাই সবার ভালর কথা মাথায় রেখেই এই লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যাতে সকলে ভাল থাকে, সবাইকে একটু কষ্ট করতে হবে। দুর্ভোগে সামিল হয়েই কাজ করতে হবে। ফ্রি রেশন বলে দিয়েছি আগামী ছ মাস। যারা অসংগঠিত ক্ষেত্রে আছে দিন আনি দিন খায়, তাদের জন্য নতুন স্কিম- প্রচেষ্টা। ওই কর্মীদের ১৫-৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ১০০০ টাকা করে দেবে সরকার। 
এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজেই শহরের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে 'সারপ্রাইজ ভিজিট' করা শুরু করেন। নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন সেরেই তিনি কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মাকে নিয়ে সোজা হাজির হন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। কথা বলেন হাসপাতলের চিকিত্‍সকদের সঙ্গে। জানতে চান করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে ওই হাসপাতাল এবং সেখানকার চিকিত্‍সকরা কতটা তৈরি। সেই সঙ্গে তিনি হাসপাতালের চিকিত্‍সকদের কাছে জানতে চান কী কী জিনিসের অভাব রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই চিকিত্‍সকদের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং মাস্ক দেন। জানান প্রয়োজনীয় আরও মাস্ক এবং অন্যন্য সরঞ্জাম দ্রুত পৌঁছবে হাসপাতালে। এরপর মুখ্যমন্ত্রী যান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেও তিনি হাসপাতালের সুপার এবং অন্যান্য চিকিত্‍সকদের সঙ্গে কথা বলেন। আর জি করের মতো এখানেও চিকিত্‍সকদের হাতে বাক্স ভর্তি হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং মাস্ক দেন।
দুই হাসপাতালেই তিনি খোঁজ নেন চিকিত্‍সক এবং নার্সদের জন্য হাসপাতালের কাছে হোটেল বা লজে থাকার বন্দোবস্ত করা হয়েছে কি না? 
মেডিক্যাল কলেজ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চলে যান এন আর এস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতালের ডেপুটি সুপার এবং অন্যান্য চিকিত্‍সকরদের সঙ্গে কথা বলেন। খোঁজ নেন ওই হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে ভর্তি রোগীদের অবস্থা সম্পর্কে। এরপর এন আর এস থেকে এসএসকেএম হাসপাতালের দিকে রওনা দেন।

জনপ্রিয়

Back To Top