আজকাল ওয়েবেডস্ক:‌ গত সোমবার রাতে প্রাক্তন ‘মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া’ উষসী সেনগুপ্তকে হেনস্থার ঘটনায় আরও কড়া পদক্ষেপ পুলিসের। ইতিমধ্যেই আদালতে তোলা হয়েছে সাত অভিযুক্তকে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ধারাও প্রয়োগ করেছে কলকাতা পুলিস। তাদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পাশাপাশি দায়ের করা হয়েছে শারীরিক নিগ্রহ ও শ্লীলতাহানির মামলাও। এর সঙ্গেই উষসী সেনগুপ্তের গোপন জবানবন্দি নেওয়ার জন্য বিচারকের কাছে আর্জি জানিয়েছে পুলিস। তবে এখানেই না থেমে, ঘটনায় পুলিসের কোনও গাফিলতি ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটিও গড়ল কলকাতা পুলিস। ডিসি–র নেতৃত্বে সেই তদন্ত কমিটি গড়া হয়েছে। সেইসময় যে পুলিসকর্মীরা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন তদন্তকারী অফিসাররা। খতিয়ে দেখা হবে ঘটনাস্থল ও পুলিস স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ। পুলিস প্রশাসনের গাফিলতি থাকলে ২০১৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ১৫৪ ধারায় কর্তব্যরত পুলিস আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হবে।
ঘটনার দিন রাতে পুলিসি পরিষেবা পেতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল খ্যাতনামা এই মডেল তথা অভিনেত্রীকে। এমনটাই অভিযোগ উষসীর। উষসী জানান, সেই রাতে কয়েকজন বাইক আরোহীর সঙ্গে বচসার পর ময়দান থানায় যান তিনি। তবে, তাঁর অভিযোগ দায়ের করতে অস্বীকার করেন সংশ্লিষ্ট থানার পুলিসকর্মীরা। অগত্যা তাঁকে দ্বারস্থ হতে হয় চারু মার্কেট থানার। সেখানেই ওই ৭ হামলাকারী বাইক আরোহীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। তবে উষসীর আক্ষেপ, তাঁর ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল হওয়ার আগেই যদি পুলিশের তরফে চটজলদি পদক্ষেপ করা হত, তাহলে এতটা হয়রান হতে হত না তাঁকে। শহরের বুকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন উষসী। বলেন, ‘‌আমি উষসী সেনগুপ্ত বলেই আমার ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর এই বিষয়ে এত তৎপড়তা দেখিয়েছে পুলিস। আজকে এই পরিস্থিতিতে তো অন্য কেউও পড়তে পারতেন!’‌ তিনি আরও বলেন, ‘‌ঘটনার সময়ে আমি অতটা ভাবার সময়ই পাইনি। আমার গাড়ির চালকের যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, সেই কথাই ভাবছিলাম। আমি যদি ৩ টে থানায় যেতে পারি ১০টা থানাতেও যেতে পারতাম। একবার ময়দান থানা, একবার ভবানীপুর থানা, একবার চারু মার্কেট থানা। সেদিন গভীর রাতে এই করতে হয়েছে আমাকে। আমার ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল হওয়ার আগে এত তৎপরতা দেখালে ভাল হত।’‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top