‌আজকালের প্রতিবেদন- ইসলামিয়া হাসপাতালের পেছনে গিরিবাবু লেনে যে বস্তিটি রয়েছে, সেখানকার শিশুদের পড়াশোনা ও স্বাস্থ্যের ভার নিতে চলেছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। সপ্তাহে দু’‌দিন খাবার দেওয়া হবে। বছরে দু’‌বার দেওয়া হবে জামাকাপড়। বছরে একবার  নিয়ে যাওয়া হবে বেড়াতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাই এই কাজটি করবেন। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তী ব্যানার্জি বলেন, শুধু উচ্চশিক্ষার উৎকর্ষ কেন্দ্র হয়ে থাকতে চাই না। আমরা সমাজসেবা করতে চাই। তারই অঙ্গ হিসেবে এই বস্তিটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।  প্রদীপের নিচে অন্ধকারের মতো কাছাকাছি এই বস্তিতে অনেকে আছে যারা স্কুলছুট। যাদের বাবা–মায়েরাও পড়াশোনার মূল্য বোঝেন না। আমাদের লক্ষ্য এই শিশুদের শৈশবকে গড়ে তোলা, তাদের সাহায্য করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে হতদরিদ্র পরিবারের শিশুদের নিয়মিত পড়ানো হবে। যারা স্কুলে পড়ে তাদের প্রতিদিনের পড়াশোনায় সাহায্য করা হবে। ছবি আঁকা শেখানো হবে। সপ্তাহে দু’‌দিন তাদের প্রিয় খাবার বিলি করা হবে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। বছরে একবার কোথাও বেড়াতে নিয়ে যাওয়া হবে। বা দুর্গাপুজোর সময় মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরানোর ব্যবস্থা করা হবে। পয়লা বৈশাখ বা পুজোয় নতুন জামা বা শীতের সময় পোশাক দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে বস্তিতে ঘুরে এসেছেন সহ–উপাচার্য (‌অর্থ)‌ মীনাক্ষী রায়। এই কাজে বিশ্ববিদ্যালয়কে যে ছাত্রছাত্রীরা সাহায্য করবে, তাদের ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে বেছে নেওয়া হবে। উপাচার্য বলেন, যেহেতু কাজটি প্রতিদিনের, তাই নিয়মিত নয়, প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী বা যারা এমফিল বা পিএচইডি করছে তাদের মধ্যে থেকে ৪ জনকে বেছে নেওয়া হবে। এই কাজের জন্য আর্থিক সমস্যা রয়েছে, টাকার দরকার এমন পড়ুয়াদেরই বাছা হবে বলে জানান উপাচার্য। ওই ৪ জনকে মাসে ২ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বস্তিতে একটি স্কুলকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যেটি দুপুর ১২টার পর ফাঁকা হয়ে যায়। স্কুলটিকে এই কাজে ব্যবহার করা হবে। এই কাজের জন্য যা খরচ হবে, তা বহন করবে বিশ্ববিদ্যালয়।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top