আজকালের প্রতিবেদন: মাংসের তৈরি জিল পিঠে, চালের গুঁড়ো দিয়ে রুটি চিরকা আসমা, ছানার সবজি দুসকা, আয়ো আসমা লুড়ু এক ধরনের পিঠে, বাঁশের কুঁড়ির আচার সান্ধনা, সজনের তরকারি, জিল চাকনা, ভাজা চুনোমাছ হাকু, তিল বাটা, পান্তাভাত, ফ্যানভাত, গুগুলি তরকারি, শুঁটকি মাছ বাটা, হাঁড়িয়া–‌সহ একাধিক খাদ্যের সম্ভার নিয়ে আসেন আদিবাসীরা। বিনামূল্যে স্বাদ আস্বাদনের সুযোগও ছিল। বুধবার কাঁকুড়গাছিতে আম্বেদকর ভবনে কালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (‌সিআরআই)‌ উদ্যোগে ও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের সহায়তায় আয়োজিত হয় ‘‌আদিবাসী খাদ্য ও পুষ্টি মেলা’। কেন্দ্রীয় সরকার সেপ্টেম্বর মাস ধরে ‘‌রাষ্ট্রীয় পোশন মাহ’‌ (‌ন্যাশনাল নিউট্রিশন মান্থ)‌ পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। সেইমতো রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তর কর্মসূচি নিয়েছে। 
আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রকের সৌজন্যে পশ্চিমবঙ্গেও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়েছে আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তর। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব বিজন মণ্ডল জানিয়েছেন,‘‌আমরা আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে এক–একটি সপ্তাহে বিভিন্নরকম সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়েছি। পশ্চিমবঙ্গে ৪০টি স্বীকৃত আদিবাসী সম্প্রদায় রয়েছে। ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং দক্ষিণ দিনাজপুর— এই সাতটি জেলায় মেলার পাশাপাশি মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর বেশি জোর দিচ্ছি।’‌ আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের যুগ্ম সচিব বৃজিত ধর বলেন, ‘‌ওজন বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ, খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধোয়ার গুরুত্ব, শৌচাগার ব্যবহার, রক্তাল্পতা দূর করতে কী ধরনের আয়রন সমৃদ্ধ খাদ্য জরুরি তা বোঝানো হবে। আদিবাসী স্কুলে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন বসানো হবে।’‌ 
সিআরআই–এর অধিকর্তা ড‌. প্রসেনজিৎ দেববর্মন জানিয়েছেন, ‘‌কলকাতার আদিবাসী পুষ্টি মেলায় শামিল হন দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে সাঁওতাল, কলকাতা থেকে ওরাওঁ, পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে মুন্ডা ও বীরভূমের মাহালি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। চিরাচরিত খাদ্যের বাইরে তাঁরা তাঁদের পরম্পরাগত বিভিন্ন খাদ্য বানিয়ে এনে প্রর্দশনী করেন। তাঁদের খাবারে কী কী পুষ্টিগুণ রয়েছে সেগুলি বোঝানো হবে বিভিন্ন জেলায়। এ ছাড়াও বিভিন্ন আদিবাসী স্কুল ও হস্টেলে প্রায় ২ হাজার সজনে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কারণ, সজনে গাছের ছাল, ডাঁটা, ফুল সবেতেই পুষ্টিগুণ রয়েছে।’‌ সচেতনতার কাজে প্রেস ইনফর্মেশন ব্যুরো, কলকাতা এগিয়ে এসেছে বলে জানান উপ–‌অধিকর্তা সম্রাট ব্যানার্জি।‌

জনপ্রিয়

Back To Top