আজকালের প্রতিবেদন: কবি–সাহিত্যিক নবনীতা দেবসেন প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। বৃহস্পতিবার সন্ধে ৭টা ৩৫ মিনিটে হিন্দুস্থান পার্কের বাড়ি ‘‌ভালোবাসা’‌–য় তাঁর জীবনাবসান হয়। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি ক্যান্সারে ভুগছিলেন। তার মধ্যেও নিয়মিত লেখালেখি চালিয়ে গেছেন। পরিবার সূত্রে খবর, রাতে বাড়িতেই থাকবে তাঁর মরদেহ। শুক্রবার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। শোকস্তব্ধ সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগৎ। মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যান মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার। 
অমর্ত্য সেন এক টিভি চ্যানেলে জানিয়েছেন, ‘‌কিছুক্ষণ আগে খবর পেয়েছি। দেখা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যার সঙ্গে দেখা করব, তিনিই নেই!‌ ওঁর অভাব বহুদিন মনে রাখবেন মানুষ।’‌ সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেছেন, ‘‌যাতে হাত দিয়েছেন, সোনা ফলেছে। অফুরন্ত প্রাণশক্তি ছিল। অসাধারণ রূপকথা লিখতে পারত। রসবোধও ছিল অসামান্য।’ নেবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি এদিন রাতে বলেন, ‘‌আমি এই ভয়টাই পাচ্ছিলাম। মাত্র কয়েকদিন আগেই দেখা হয়েছিল। উনি সাহসী, প্রাণোচ্ছল, মজার মানুষ ছিলেন।’‌ বুদ্ধদেব গুহ বলেছেন, ‘‌আমার ছোটবেলার বন্ধু। আমি ওর লেখার ভক্ত।’‌
নবনীতা ছিলেন প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রাক্তনী। প্রেসিডেন্সি প্রাক্তনী সংসদের সভাপতি পদেও ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রাক্তনী সংসদের সাধারণ সম্পাদক বিভাস চৌধুরি।‌‌ তিনি ছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী সংসদের সভাপতি। তিনিই এই পদে প্রথম মহিলা সভাপতি।
বাবা ছিলেন কবি নরেন্দ্র দেব। মা রাধারানী দেব। হিন্দুস্থান পার্কে তাঁদের ‘ভালবাসা’ বাড়িতেই ১৯৩৮ সালের জানুয়ারি মাসে জন্ম নবনীতার। গোখেল মেমোরিয়াল স্কুলে পড়াশোনা শুরু। গ্র‌্যাজুয়েট হয়েছিলেন প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে। ১৯৫৮ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাশ করেন। পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিসটিংশন নিয়ে আবার এমএ পাশ করেন সাহিত্যের এই কৃতী ছাত্রী। পিএইচডি ডিগ্রি ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। 
‌নবনীতার লেখা জগৎমোহনবাবুর জগৎ, খগেনবাবুর পৃথিবী, পলাশপুরের পিকনিক, বুদ্ধিবেচার সওদাগর যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছিল। তাঁর ঝুলিতে র‌য়েছে গল্পগুজব, অন্যান্য গল্প, বসন মামার বাড়ি, স্বাগত দেবদূত, তিন ভুবনের পারের মতো অসাধারণ কিছু কাব্যগ্রন্থ। একাধিক ভাষা জানতেন। বাংলা, ইংরেজি, সংস্কৃত, হিন্দি ছাড়াও জানতেন হিব্রু, ওড়িয়া, অসমিয়া, ফ্রেঞ্চ ও জার্মান ভাষা। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top