উদয় বসু: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পক্ষপাতদুষ্ট আইন। যা বেআইনিভাবে সংসদে পাশ করানো হয়েছে। এর বিরুদ্ধে সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু করতে হবে বলে মনে করেন ইতিহাসবিদ ও প্রাক্তন সাংসদ সুগত বসু। শুক্রবার বনহুগলি ব্রহ্মানন্দ কেশবচন্দ্র কলেজ প্রাঙ্গণে পশ্চিমবঙ্গ ইতিহাস সংসদের ৩৬তম বার্ষিক অধিবেশনের আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানেই এ কথা বলেন তিনি। এদিন অধিবেশনের সূচনা করেন দমদমের সাংসদ অধ্যাপক সৌগত রায়। সঙ্গে ছিলেন অধ্যক্ষা পাপিয়া চক্রবর্তী, ইতিহাস সংসদের সভাপতি রঞ্জিত সেন। ৩ দিনের এই অনুষ্ঠানে ৬০০ জন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। তার মধ্যে ১০০ জন এসেছেন বাংলাদেশ থেকে। মূল বক্তা সুগত বসু তাঁর বক্তব্যে ক্যা, এনআরসি নিয়ে সরব হন। গান্ধীজি এবং নেতাজি যে হিন্দু–মুসলিম ভেদাভেদ আইনের বিপক্ষে ছিলেন তা বুঝিয়ে দেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‌আজ যখন জাতীয় সঙ্কটের মধ্য দিয়ে আমরা চলছি তখন বারবার নেতাজির কথা মনে পড়ছে। যিনি হিন্দু, মুসলিম–সহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষের ঐক্যে গড়ে তুলেছিলেন আজাদ হিন্দ বাহিনী। নেতাজির প্রতিটি পদক্ষেপে মুসলমান ভাইরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। নেতাজির শেষ সফরসঙ্গী ছিলেন হবিবুর রহমান। মহাত্মা গান্ধী তাঁর হরিজন পত্রিকায় লিখেছিলেন— নেতাজির নামে জাদু আছে। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন সকলকে নিয়ে কীভাবে ঐক্য গড়ে তুলতে হয়। মানুষের সঙ্গে মানুষের ভেদাভেদের বিরুদ্ধে ঐকমত্য ছিল গান্ধীজি ও নেতাজির মধ্যে। ছিল একে অপরের প্রতি গভীর ভালবাসা ও শ্রদ্ধা। আজ দু’‌জনকেই স্মরণ করে শপথ নেওয়ার সময় এসেছে। আইন প্রণয়ন যাঁরা করেছেন তাঁরা যেন মনে রাখেন, আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ ধর্মভীরু হলেও ধর্মান্ধ নয়। আমাদের তরুণ প্রজন্ম যে ভাবে এই ভয়ঙ্কর আইনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে তাতে আমরা আশার আলো দেখতে পারছি। তাঁরা সংবিধান হাতে রাস্তায় নেমে পড়েছেন।’‌ অনুষ্ঠানে কৃতী ইতিহাসবিদদের পুরস্কৃত করা হয়। বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন দিলশাদ আরা, মেসবাহ কামাল, এস এম মফিজুর রহমান, মহম্মদ জাফারিয়া, রেবেকা সুলতানা, কালিদাস ভক্ত, অরিনা খাতুন, তাসনুভা রহমান, জান্নাত–এ–ফিরদৌস, উন্নে হাবিরা ইয়াসমিন, নিবেদিতা দাস প্রমুখ।

প্রাক্তন সাংসদ সুগত বসু। বনহুগলিতে। শুক্রবার। ছবি:‌ ভবতোষ চক্রবর্তী‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top