‌নীলাঞ্জনা সান্যাল:  ছাত্র কাউন্সিল একটিই। কিন্তু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি শাখা থেকে একজন করে তিনজন পড়ুয়া কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হবেন। এই মর্মে কাউন্সিলের ঘোষিত বিধিতে বদল আনছে রাজ্য সরকার। মূল বিধিতে ছাত্র কাউন্সিলের তহবিলের দায়িত্বে একজন শিক্ষককে রাখা হয়েছে। বদল এনে সহকারী কোষাধ্যক্ষের পদ তৈরি করা হচ্ছে। সহকারী কোষাধ্যক্ষ হবেন একজন পড়ুয়া। সহ–সভাপতির পদও তৈরি হচ্ছে। এই পদে একজন ছাত্র মনোনীত বা নির্বাচিত হবেন। 
কিছুদিন আগেই ছাত্র কাউন্সিলের ঘোষিত বিধিতে কয়েকটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি। বিকাশভবন সূত্রে খবর, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে বিধিতে মূলত এই তিনটি বদলই আনা হচ্ছে। যেহেতু বিধিতে বদল তাই শুধু বিজ্ঞপ্তি জারি করলেই হবে। 
ছাত্র কাউন্সিল নয়, আগের মতো ইউনিয়ন চাই–এই দাবিতে অবশ্য এখনও অনড় যাদবপুরের পড়ুয়ারা। ইউনিয়নের দাবিতে প্রথম আন্দোলনও শুরু হয় যাদবপুরে। পরে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনায় বসে তারা। কেন কাউন্সিল নয়, ইউনিয়ন, তার ব্যাখ্যায় ইঞ্জিনিয়ারিং, বিজ্ঞান ও কলা–এই তিনটি বিভাগে আলাদা তিনটি ইউনিয়ন গঠনের যে রেওয়াজ চলে আসছে সেই বিষয়টি উঠে আসে। বিকাশভবন সূত্রে খবর, তিনটি কাউন্সিল গঠন সম্ভব নয়। তাই সমাধানসূত্র খুঁজতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়টিকে মাথায় রেখেই তিনটি শাখার পড়ুয়াদের মধ্যে থেকে তিনজন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের বিষয়টি ভাবা হয়। এবং এই মর্মেই বদল আনা হচ্ছে। বদলে যাদবপুরের নাম উল্লেখ না থাকলেও বলা হচ্ছে যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে দীর্ঘদিন ধরে শাখাভিত্তিক আলাদা ছাত্র ভোট হয়ে আসছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য। 
কাউন্সিলে লেডি ব্রেবোর্নের ধাঁচে কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব শিক্ষক বা শিক্ষিকাকে দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে আপত্তি ছাত্র সংগঠনগুলির। সংগঠনগুলির দাবি মেনেই তহবিলের দায়িত্বে একজন ছাত্র প্রতিনিধি আনা হচ্ছে। সহকারী কোষাধ্যক্ষ–র পদ তৈরি করা হচ্ছে। এই পদে একজন পড়ুয়া নির্বাচিত হবেন। বিভিন্ন কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের টাকা খরচ নিয়ে বিতর্কের জেরেই কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে একজন শিক্ষককে আনা হয়েছিল। ফের এই পদে ছাত্র প্রতিনিধি নিয়ে আসায় আগের সমস্যা যাতে ফের ফিরে না আসে, তার জন্য তহবিলের টাকা খরচের ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। টাকা খরচের ক্ষেত্রে কোষাধ্যক্ষ এবং সহকারী কোষাধ্যক্ষ দুজনের স্বাক্ষরই লাগবে, এমন নিয়ম করার কথাও ঠিক হয়েছে। 
ঘোষিত বিধি অনুযায়ী ছাত্র সংসদের সভাপতি হবেন একজন শিক্ষক। এক্ষেত্রে সেন্ট জেভিয়ার্সের মডেলটি অনুসরণ করা হয়েছে। কলেজের ক্ষেত্রে অধ্যক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে উপাচার্য কে সভাপতি হবেন তা ঠিক করবেন। ছাত্র সংগঠনগুলির দাবি মেনে সহ– সভাপতি পদ তৈরি করা হচ্ছে। সহ–সভাপতি হবেন একজন পড়ুয়া। 
প্রসঙ্গত, সেন্ট জেভিয়ার্স ও লেডি ব্রেবোর্ন কলেজের ছাত্র সংসদের আদলে ইতিমধ্যেই অরাজনৈতির ছাত্র কাউন্সিল গঠনের বিধি তৈরি করেছে রাজ্য। বিজ্ঞপ্তিও জারি হয়েছে। বিধি তৈরি হওয়ার পর অবশ্য এখনও ছাত্র ভোট হয়নি। শেষ ভোট হয়েছিল ২০১৬–’‌১৭ শিক্ষাবর্ষে। ২০১৮–’‌১৯ শিক্ষাবর্ষের ভোটের বিজ্ঞপ্তি পুজোর পর নভেম্বর মাসে প্রকাশিত হতে পারে। সেক্ষেত্রে ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে ছাত্র ভোট হতে পারে বলে জানা গেছে।

জনপ্রিয়

Back To Top