আজকালের প্রতিবেদন
‌দিল্লির জন্যই মাঝেরহাট সেতু নির্মাণ করতে এক বছর বেশি সময় লেগেছে। রেলের অনুমতি পেতে দেরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নবান্নে এ কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এদিন রেলের অনুমতি পাওয়ার বিষয়ে তথ্য দিয়ে পূর্তমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেছেন, ‘‌রেলের জন্যই সেতু তৈরিতে দেরি হয়েছে। শুধু তা–‌ই নয়, রেলকে দিতে হয়েছে ৩৩ কোটি ৩ লক্ষ টাকা। তার পরেও অনুমতি আসেনি। এর পরেও বিজেপি বিক্ষোভ দেখায়?‌ এর চেয়ে লজ্জার কিছু নেই।’‌‌
‌বৃহস্পতিবার মাঝেরহাট সেতু চালুর দাবিতে গোলমাল পাকায় বিজেপি। সেখানে গিয়েছিলেন বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট–‌পাটকেল ছোড়ার পাশাপাশি গার্ডরেল ফেলে দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এদিন বলেছেন, ‘‌সেতু ভাঙার পর নতুন করে তৈরি করতে ধাপে ধাপে রেলের অনুমতি পেতে দেরি হয়েছে। বেহালার মানুষ জানেন, আমি কী উন্নয়ন করেছি। রেলমন্ত্রী থাকার সময় বেহালার মেট্রো প্রকল্প আমিই করেছিলাম। বেহালার সব উন্নয়ন আমার করা।’‌ তিনি বলেছেন, ‘‌অনুমতি পাওয়ার জন্য বারবার রেলের সঙ্গে মিটিং করতে হয়েছে, অনুরোধ করতে হয়েছে। ৭ দিনের মধ্যে অনুমতি পেয়ে গেলে সেতু চালু করতে আমরা তৈরি। ২০১৮ সালে সেতুটি ভেঙে পড়ায় দু’‌বছর গঙ্গাসাগর মেলায় যাতায়াত করতে খুব কষ্ট হয়েছে। প্রায় তিন বছর ধরে বেহালা এবং দক্ষিণ কলকাতার মানুষ যাতায়াতে প্রচণ্ড অসুবিধা ভোগ করছেন। পূর্ত দপ্তর সেতু তৈরি করে ফেলেছে। কিন্তু রেলের অনুমতি নেই। বিজেপি রাজনীতি করার জন্যই এটা করছে। 

 

l ১ পাতার পর
না–‌হলে এক বছর আগেই মাঝেরহাট সেতু খুলে দেওয়া যেত।’‌
এদিন বিজেপি–‌র গোলমাল পাকানো নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‌ওটা বিক্ষোভ হচ্ছে না, নাটক হচ্ছে। ৯ মাস রেল যখন অনুমতি দেয়নি, তখন তোমরা কী করছিলে?‌ ঘুমোচ্ছিলে,‌ নাকি হুকো টানছিলে?’‌ কৈলাস বিজয়বর্গীয়র নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‌পুলিশ যাঁকে গ্রেপ্তার করেনি, অথচ তিনি বলছেন, তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। বাসে উঠে পড়েছেন, আর বলছেন গ্রেপ্তার করেছে। সব ছবি তোলার জন্য। আমি আন্দোলন করে আসা মানুষ। আমি বুঝি, কোনটা নাটক আর কোনটা আন্দোলন। বাংলায় বহিরাগতদের কোনও জায়গা নেই। দাঙ্গা পার্টিদের কোনও স্থান নেই। যারা শুধু অকাজ করে বেড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলতেও লজ্জা করে। আমরা শুধু কাজ করতেই ভালবাসি।’‌
এদিন পূর্তমন্ত্রী তথ্য দিয়ে বলেছেন, ‘‌রেল লাইনের ওপরে সেতুর ৭০ মিটার অংশ ভাঙতে সময় লেগেছে ১৪২ দিন। জেনারেল অ্যারেঞ্জমেন্ট ড্রইং রেলের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল ২০১৮ সালের ২০ ডিসেম্বর। অনুমতি পাওয়া গেছে ৬৭ দিন পরে। অর্থাৎ ২০১৯–‌এর ২৫ ফেব্রুয়ারি। ফাউন্ডেশন ড্রইং জমা দেওয়া হয়েছিল ২০১৯–‌এর ১২ মার্চ। অনুমতি দিয়েছে ২২১ দিন পরে, অর্থাৎ ২০১৯–‌এর ৯ অক্টোবর। সাব–‌স্ট্রাকচার ড্রইংয়ের অনুমতি পেতেই লেগেছে ১৯৯ দিন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারা ইনস্পেকশন করে অনুমতি দিয়েছে। তা সত্ত্বেও এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যাচ্ছে না। তার ওপর কোভিডের জন্য ৩ মাস দেরি হয়েছে।’‌
এদিন বিজেপি–‌র গোলমাল পাকানোর ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূল মিছিল করে সন্ধেয়। দলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি বলেছেন, ‘‌মানুষের দুর্দশা, অভাব–‌অভিযোগ নিয়ে লকডাউনের পর থেকে আমরা মোকাবিলা করছি। আজ এসে এখানে নাটক করছে, বিশৃঙ্খলা পাকাচ্ছে। মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে উন্নয়নের কাজ ব্যাহত করার যে চেষ্টা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’‌ ‌


জনপ্রিয়

Back To Top