আজকালের প্রতিবেদন
চূড়ান্ত সেমেস্টার ও বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে দেশের সমস্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে ইউজিসি ৬ জুলাই যে সংশোধিত নির্দেশিকা পাঠিয়েছে, তার তীব্র বিরোধিতা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। শনিবার ওই চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা নেওয়া বাধ্যতামূলক জানিয়ে কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক ও ইউজিসি যে নির্দেশিকা পাঠিয়েছে, সেই ব্যাপারেই আমি আপনাকে লিখছি। ২৯ এপ্রিল ইউজিসি যে নির্দেশিকা পাঠিয়েছিল, তা অ্যাডভাইসরি এবং পরামর্শমূলক বলে স্পষ্ট জানিয়েছিল। কিন্তু ৬ জুলাইয়ের সংশোধিত নির্দেশিকায় ইউজিসি দেশের সমস্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সেপ্টেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত সেমেস্টার এবং চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা বাধ্যতামূলক ভাবে শেষ করতে বলেছে।’
মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘দেশের কোভিড সংক্রমণ ক্রমশ বাড়তে থাকায় অদৃষ্টপূর্ব, অনিশ্চিত ও কঠিন এই পরিস্থিতিতে আমাদের সরকার সব উপাচার্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে ২৭ জুন রাজ্যের সরকার পরিচালিত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে একটি নির্দেশিকা পাঠায়। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ওই নির্দেশিকায় ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের কথা মাথা রেখে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ণ ও আগের সেমেস্টারগুলির প্রাপ্ত নম্বরকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তা ছাড়া, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যে সব ছাত্র বিকল্প মূল্যায়ণ পদ্ধতির বদলে নিয়মমাফিক পরীক্ষায় বসতে চায়, তাদের জন্য বিশেষ পরীক্ষা নেওয়ার কথাও ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল।’
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘উচ্চশিক্ষা দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী আমাদের রাজ্য সরকার পরিচালিত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলি ইতিমধ্যেই কিছু পদক্ষেপ করেছে। ছাত্রছাত্রী, তাদের অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট সকলেই ওই নির্দেশিকাকে দারুণ ভাবে স্বাগত জানিয়েছে। কিন্তু আমি এখন ছাত্র ও শিক্ষক সমাজের কাছ থেকে শয়ে শয়ে ই–মেল পাচ্ছি, যাতে তারা ইউজিসি–র সংশোধিত নির্দেশিকা অনুযায়ী পরীক্ষা হওয়া নিয়ে উদ্বেগ জানাচ্ছেন। আসলে সেগুলোই আমাকে বাধ্য করছে বিষয়টা আপনাকে জানাতে।’
মুখ্যমন্ত্রী উদ্বেগের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, ‘এই পরিস্থিতিতে ইউজিসি–র সংশোধিত নির্দেশিকা শুধু আমাদের রাজ্যেই নয়, সারা দেশের ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ বিপন্ন করবে।

 

 বিভিন্ন রাজ্য নতুন নির্দেশিকা নিয়ে তাদের উদ্বেগ ও অসম্মতির কথা ইতিমধ্যেই সরকারকে জানিয়েছে। আপনার কাছে আমার অনুরোধ, অবিলম্বে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে ইউজিসি–র আগেকার নির্দেশিকা কার্যকর করা হোক। সে ক্ষেত্রে ইউজিসি–র ২৯ এপ্রিলের নির্দেশিকা অনুযায়ী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে ছাত্রদের স্বার্থরক্ষায় আমাদের রাজ্য সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সুবিধা হবে।’
চিঠির শেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ছাত্রছাত্রীদের প্রতি আস্থা জানিয়ে লিখেছেন, ‘ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক সমাজ আমাদের দেশের তো বটেই, সারা বিশ্বের সম্পদ। শরীরে ও মনে তাদের ভাল থাকার দিকে আমাদের নিশ্চয়ই নজর দেওয়া দরকার। তারা যাতে ভেঙে না পড়ে, দেখা দরকার।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top