তরুণ চক্রবর্তী
চারদিক স্তব্ধ। সাড়ে চার মাসে এটাই যেন দস্তুর হয়ে উঠেছে রাজ্যের ব্যস্ততম দুই রেল স্টেশন শিয়ালদা ও হাওড়ার। চেনা ভিড়টাই নেই। স্টেশন চত্বর ঘুমিয়ে আছে। আর এই নির্জনতাকেই কাজে লাগিয়ে রেল–‌কর্তারা স্টেশনের শোভাবর্ধনের কাজ অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গেছেন। এত কাল ইচ্ছে থাকলেও ভিড়ের কারণে যা করতে পারেননি তঁারা। পরিচর্যা চলছে রেললাইন থেকে শুরু করে সব পরিকাঠামোর। লকডাউন শেষ হলে যাত্রীদের ঝঁা–‌চকচকে রেল–‌পরিষেবা দিতে সোমবার থেকে শুরু হয়ে গেছে সপ্তাহব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান।
প্ল্যাটফর্মের ভেতরেই গড়ে উঠছে ক্যাফেটরিয়া, শপিং মল। বদলে গেছে স্টেশনের মাথার ওপর টিনের ছাউনি। সেখানেও সৌন্দর্যায়নের ছেঁায়া। মেন স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম নম্বর এখন ১ থেকে টানা ১৪। ১–‌এর এ বা ৯–‌এর এ, বি, সি আর নেই। দক্ষিণেও তেমনি ১৫ থেকে ২১ টানা প্ল্যাটফর্ম নম্বর। সর্বত্রই আধুনিকতার ছেঁায়া। হাওড়া স্টেশনেও লকডাউনকে কাজে লাগিয়ে সৌন্দর্যায়নের পাশাপাশি চলছে যাত্রী–‌সুবিধার্থে নানা প্রস্তুতি। ইতিমধ্যেই আলোর রোশনাইয়ে ভাসছে হাওড়া। কলকাতা স্টেশনে গড়ে তোলা হয়েছে প্ল্যাটফর্ম প্রিমিয়াম লাউঞ্জ। শুধু এই তিন স্টেশনই নয়, রাজ্যের বহু রেল স্টেশনেই লেগেছে উন্নয়নের ছেঁায়া। বিভিন্ন রেলসেতুর পরিচর্যায় এই দীর্ঘ লকডাউনকে কাজে লাগিয়েছে ভারতীয় রেল।
কলকাতায় পূর্ব ও দক্ষিণ–‌পূর্ব রেল সূত্রে খবর, ৭ দিন ধরে রেল–‌প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু করে ট্রেনের বগি, লাইন, সেতু— সব কিছুই সাফাই করা হবে। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক নিখিল চক্রবর্তী জানান, গত চার মাসে যাত্রী–‌স্বাচ্ছন্দের লক্ষ্যে ব্যাপক কাজ হয়েছে। দক্ষিণ–‌পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সঞ্জয় ঘোষও জানান, স্টেশনগুলির সৌন্দর্যায়নের পাশাপাশি যাত্রী–‌নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে নিয়মিত নজরদারি চলছে সর্বত্র। কলকাতার দুটি রেলই লকডাউনের দিনগুলিতে দুঃস্থ মানুষদের মধ্যে নিয়মিত খাবার বিলি করেছে। তা ছাড়া পার্সেল এক্সপ্রেস ও মালগাড়ি চালিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী সরবরাহেরও ব্যবস্থা করেছেন রেল–‌কর্মীরা।

জনপ্রিয়

Back To Top