সাগরিকা ‌দত্তচৌধুরি
ভর্তি না নিয়ে অ্যাম্বুল্যান্সেই এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগের খবর সংবাদ মাধ্যমে দেখে এই প্রথম স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বাইপাসের এক বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করল পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশন। আগে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে দু‌টো অভিযোগ গৃহীত হলেও এই প্রথম স্বাস্থ্য কমিশন এই ধরনের প্রয়াস নিল। অন্যদিকে মৃত শ্যামনগরের চিকিৎসক প্রদীপ ভট্টাচার্যের করোনা চিকিৎসায় ১৮ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকার বিল পুনর্বিবেচনার জন্য নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য কমিশন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিল পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানানো হয় কমিশনের তরফে।
সোমবার রাতে করোনা আক্রান্ত তমলুকের বাসিন্দা ৬০ বছরের প্রৌঢ়া লায়লা বিবিকে ডিসান হাসপাতালে ভর্তি করাতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, দেড় ঘণ্টা ধরে টালবাহানার পর অ্যাম্বুল্যান্সেই রোগীর মৃত্যু হয়। ভর্তির আগে হাসপাতাল তিন লক্ষ টাকা জমা দিতে বলে। পরিবারের দাবি ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা দেওয়া সত্ত্বেও ভর্তি নেওয়া হয়নি। অ্যাম্বুল্যান্সেই পড়ে ছিলেন রোগী। অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা করাতে কলকাতায় আসেন ওই প্রৌঢ়া। শনিবার তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়। তারপরই ওই প্রৌঢ়া অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে পার্কসার্কাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। সোমবার রাতে ডিসানে গেলে গেটের সামনে অ্যাম্বুল্যান্সেই মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ মৃতের জামাই সইফুল্লা খানের। এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার স্বাস্থ্য কমিশনের চেয়ারপার্সন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার ব্যানার্জি বলেছেন, ‘‌সংবাদ মাধ্যমে গোটা ঘটনার কথা জেনেছি। ঘটনা যাই হোক, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অমানবিক ঘটনা। বেসরকারি দুই হাসপাতালের তরফে তাদের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে। যেখানে প্রথমে ওই রোগী ভর্তি ছিলেন এবং যেখানে ভর্তি হতে গিয়েও, ভর্তি হতে পারেননি। ভর্তির আগেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। সব কিছু ঠিক থাকলে ১৯ আগস্টই এই মামলার শুনানি হবে। পারিপার্শ্বিক খবরের ভিত্তিতে এই প্রথম কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করা হল। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত মানুষকে ঠিকমতো পরিষেবা দেওয়ার।’‌ যদিও বেসরকারি ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। দাবি, যথাযথ চিকিৎসা অ্যাম্বুল্যান্সেই শুরু করা হয়েছিল। 
অন্যদিকে শ্যামনগরের ফিডার রোডের বাসিন্দা জেনারেল ফিজিশিয়ান প্রদীপ ভট্টাচার্যের (‌৫৮)‌ মৃত্যু হয় মেডিকা হাসপাতালে। তাঁর কোভিড পজিটিভ ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর চিকিৎসার বিল নিয়ে হইচই পড়ে যায়। এদিন স্বাস্থ্য কমিশনের চেয়ারপার্সন অসীমকুমার ব্যানার্জি বলেছেন, ‘শ্যামনগরের ওই চিকিৎসকের মৃত্যুতে আমরা বেদনাহত। একটি সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে দেখতে পাই তাঁর চিকিৎসার বিল হয়েছে ১৮ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকা। তিনি যেখানে ভর্তি ছিলেন, ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আমি বিলটি পুনর্বিবেচনা করতে বলেছি। বিল মিটিয়ে দিলেও কিছু টাকা ফেরাবার ব্যবস্থা করতে। পাঁচ মিনিটের মধ্যে আমাকে কর্তৃপক্ষ বিলটি পুনর্বিবেচনা করবেন বলে জানান।’‌‌‌
এদিকে, প্রদীপবাবুর পরিবারের পাশে দঁাড়িয়ে নজির সৃস্টি করলেন শ্যামনগরের মানুষ। শেষকৃত্যে অংশও নিলেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে। ডাঃ প্রদীপ ভট্টাচার্য অত্যন্ত জনপ্রিয় চিকিৎসক ছিলেন। 

জনপ্রিয়

Back To Top