দীপঙ্কর নন্দী
গত এক বছরে সাড়ে বাইশ লক্ষ রাজ্যবাসী ‘‌দিদিকে বলো’–‌তে কথা বলেছেন।‌ কেউ চিকিৎসায় সাহায্য পেয়েছেন, কেউ পেয়েছেন কাজ। কারও ঘরবাড়ি তৈরি  হয়েছে, কোথাও গ্রামের ভাঙা রাস্তা মেরামত হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ২০১৯–এর ২৯ জুলাই ‘‌‌দিদিকে বলো’‌ জনসংযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। এই কর্মসূচির পিছনে আছে প্রশান্ত কিশোরের ‘‌আইপ্যাক’‌। মুখ্যমন্ত্রী সেদিন বলেছিলেন, ‘‌আমরা একটা ফোন নম্বর দিচ্ছি। সেখানে ফোন করে মানুষ অভাব–অভিযোগের কথা জানাতে পারবেন। আমার সঙ্গেও কথা বলতে পারবেন।’‌ ২০২০–র ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২২ লক্ষ ৪৫ হাজার ৯৬৪ জন ওই নম্বরে ফোন করে তাঁদের অভাব–অভিযোগ জানিয়েছেন। ‘‌দিদিকে বলো’‌ কর্মসূচিতে গোটা বাংলায় তৃণমূলের সব স্তরের নেতা ও কর্মী অংশ নেন। কেউ কেউ নিজের এলাকায় কোনও কর্মীর বাড়িতে একদিনের জন্য রাত্রিবাসও করেন। এই অভিনব এবং নিবিড় জনসংযোগে তুমুল সাড়া পাওয়া গিয়েছে।
বর্তমানে করোনার জন্য মাঠে নেমে এই কর্মসূচি পালন করা না গেলেও, এখনও অনেকেই ফোন করে নিজেদের সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। যাঁরা ফোন করেছেন, তাঁদের মধ্যে যেমন রয়েছেন তৃণমূলের কর্মী, তেমন রয়েছেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষও। ফোনে তাঁদের মধ্যে কারও কারও সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কথা হয়েছে। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে খুশি।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দিদিকে বলো কর্মসূচি ফের শুরু হতে চলেছে। বিভিন্ন জায়গায় এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে কিনা, আইপ্যাক থেকে সে ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। এলাকায় বসে মন্ত্রী, সাংসদরা জড়ো হওয়া মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। তাঁদের এমন কিছু কিছু কাজের কথা বলা হয়েছে, যা মন্ত্রী, সাংসদেরা লিখে নিয়ে সরাসরি কলকাতার অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছেন। কোভিডের জন্য যেহেতু কর্মসূচি পালন করা যাচ্ছে না, তাই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। ইউটিউবে আপলোড করা হয়েছে।
২০১১–য় ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি যে–‌সব প্রকল্প চালু করেছেন, সেগুলির তালিকা রয়েছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা দিদিকে বলো কর্মসূচির সাফল্যের কথাও বলা হয়েছে। তিন হাজার একশোটি গ্রাম পঞ্চায়েতে এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে। পঞ্চায়েতের কাজ কেমন চলছে, তা–ও জেনে নেওয়া হয়েছে। প্রচারের ক্ষেত্রে আইপ্যাক সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ জোর দেয়। সাংসদ ও তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি অভিষেক ব্যানার্জি, সাংসদ ও দলের মুখপাত্র ডেরেক ও’‌ব্রায়েন নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির মতো ফেসবুক লাইভ, টুইট করেন। দলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি, কলকাতা পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর প্রধান ও মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, সাংসদ শান্তনু সেন, মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন।
পরের দফায় দিদিকে বলো কর্মসূচি শুরুর সময় কর্মী এবং নেতাদের কী করতে হবে, তা–ও জানিয়ে দেওয়া হবে। ২০২১–এর বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে বলে আপাতত ঠিক করা হয়েছে। 

জনপ্রিয়

Back To Top