ঘাতক যে রোগটিকে সহজেই এড়ানো যেত বাড়তি একটু সতর্কতা অবলম্বন করে, তা আদৌ সম্ভব হয়নি আমাদের মধ্যে থাকা অসচেতন কিছু মানুষের কারণে। হয়তো সেজন্যই আজ দীর্ঘ লকডাউনের পরেও কোভিড আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে ভারত বিশ্বের মধ্যে প্রথম তিনে। মারণ এই চীনা ভাইরাসের ফলে যখন জীবন ও জীবিকা বিপন্ন হয়ে উঠছে ২১৬টি দেশে, এমন সময় ১৩৬ কোটির এই দেশে প্রতিদিনই নতুন করে রেকর্ড কোভিড আক্রান্তের সংখ্যাবৃদ্ধি আসলে অশনিসঙ্কেত। টিকা বা ভ্যাকসিন যতদিন না আসে, ততদিন করোনা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে মুখে মাস্ক, একে অপরের মধ্যে ২ গজ দূরত্ব এবং নিজের হাতদুটিকে বারে বারে দু’‌ফোঁটা অ্যালকোহলযুক্ত স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার রাখা অতি আবশ্যক। না হলে এই সংক্রামক রোগে দেশ ও দেশবাসীর অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়বে। ৪টি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আজকাল–কে সোজাসাপটা ভাষায় এমনটাই জানালেন ঘরোয়া ওষুধ প্রস্তুতকারক বিডি ফার্মার পরিচালক সঞ্জীব দত্ত।

প্রশ্ন: কোভিড প্রতিরোধে স্যানিটাইজার কতটা জরুরি?‌
উত্তর:‌ দেখুন, স্যানিটাইজার হল জীবাণুমুক্ত করার তরল এক পদার্থ, যার মধ্যে অ্যালকোহলের মাত্রা ৭০%‌ বা তারও বেশি হওয়া উচিত। কড়া আইনবিধি মেনেই হু–র নির্দেশ অনুযায়ী আমাদের এখানে তৈরি স্যানিটাইজারে ব্যবহৃত হয় বিশুদ্ধ আইজোপ্রোপাইল। যদিও নকল স্যানিটাইজার থেকে সজাগ থাকতে হবে ক্রেতাদের। অল্প দামের ফাঁদে পড়ে অজান্তেই ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে মিথানলযুক্ত স্যানিটাইজার, যা মানবশরীর এবং ত্বকের ক্ষেত্রে ক্ষতিকরই শুধু নয়, বিপজ্জনকও। এই অদৃশ্য জীবাণু থেকে মুক্তি পেতে হলে স্যানিটাইজার তৈরির ক্ষেত্রে কাঁচামাল হিসেবে আইজোপ্রোপাইল, ইথানল বা ইথাইল অ্যালকোহলের নেই কোনও বিকল্প।
প্রশ্ন: স্যানিটাইজারকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য কী করে করা যায়?‌
উত্তর:‌ আজ গোটা বিশ্ব জুড়ে করোনা প্যানডেমিকের থাবা। রোগের সংক্রমণে বাদ পড়েনি কোনও দেশই। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে ভারতেও। কোভিডের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে প্রয়োজন সাবান দিয়ে বারে বারে হাত ধোয়া অথবা দু’‌ফোঁটা স্যানিটাইজার নিজের দুটি হাতে ঘষে নেওয়া। অথচ এই দেশে অ্যালকোহলযুক্ত স্যানিটাইজারের ওপর জিএসটি ধার্য করা হয়েছে ১২%‌ হারে। এর ফলে বাজারে স্যানিটাইজারের দাম অন্য দেশের তুলনায় এখানে বেশি। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এই জরুরি অবস্থায় অত্যাবশ্যক হয়ে ওঠা স্যানিটাইজারের ওপর ধার্য কর কি আরও একটু সরল করা যেত না? জনহিতে?‌
প্রশ্ন: ফার্মা শিল্পে গত ১১ বছরে কতটা এগোলেন?‌
উত্তর:‌ ওষুধ উৎপাদনে এই রাজ্যে আমরা রয়েছি গত এক দশকের একটু বেশি সময় ধরে। সর্দি–কাশি, জ্বর, অম্বল ও বদহজম সংক্রান্ত একগুচ্ছ জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনের পাশাপাশি তরল গ্লিসারিন তৈরিতে ভালই নামডাক আমাদের। ছানা কাটানোর জন্য উপযোগী বিডি ফার্মার ক্যালসিয়াম ল্যাকটেট এখন বাংলার হেঁসেলে এক ঘরোয়া নাম। কাটা‌ছেঁড়ার ক্ষেত্রে সকলের ভরসাযুক্ত মেরব্রোম্যান আজ চিকিৎসাক্ষেত্রে ধন্বন্তরি। মধুময় রোগীদের জন্য আমরা বাজারে এনেছি ন্যায্য মূল্যের শুগারফ্রি কন্টেনার। রাজ্যের খাদ্য এবং গণবণ্টন দপ্তর যদি ন্যায্য মূল্যের এই শুগারফ্রি কন্টেনারকে সাধারণ গরিব মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়, তাহলে উপকৃত হবেন অনেক ডায়াবেটিক রোগী। 
প্রশ্ন:‌ স্যানিটাইজার উৎপাদনে আরও বেসরকারি প্রচেষ্টা কি আদৌ প্রয়োজন?‌
উত্তর:‌ দুর্যোগের চেয়ে কিছু কম নয় এই করোনা–কাল। একফোঁটা রক্ত না ঝরিয়েও যে জীবন, জীবিকা এবং দেশের অর্থনীতিকে খতম করা যায়, তা দেখিয়ে দিল কোভিড। আর সেই জন্যই বোধহয় রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনে থাকা ড্রাগ কন্ট্রোল অথরিটি বিগত দিনে ওষুধ প্রস্তুতকারক এবং ডিস্টিলারিদের ছাড়পত্র দিয়েছে স্যানিটাইজার তৈরির ক্ষেত্রে। করোনা প্রতিরোধে রাজ্য এবং কেন্দ্রের সমন্বয়ে ভাল কাজ হচ্ছে, এই নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই।‌ সর্তক হতে হবে আমাদেরই, পরে দোষারুপের জায়গা থাকবে বলে মনে হয় না। জনস্বাস্থ্য দপ্তর চাইলে আমরা জনহিতে বাল্ক হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাজ্যে যোকোন অংশে পৌছে দিতে প্রস্তুত। 

জনপ্রিয়

Back To Top