সব্যসাচী সরকার
বিজেপির হাত ছাড়লেন বিমল গুরুং। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সুপ্রিমো ৩ বছর অজ্ঞাতবাসের পর হঠাৎই প্রকাশ্যে এলেন বুধবার দুপুরে। একেবারে নাটকীয় ভাবে। তারপর সন্ধেবেলায় সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে বিজেপি সঙ্গ ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করলেন। বললেন, ‘‌আগামী বিধানসভায় তৃণমূলকে জেতানোর জন্য লড়ব।’‌
গুরুংয়ের কথায়, ‘‌আগামী বিধানসভা নির্বাচনে আমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে আবার মুখ্যমন্ত্রী পদে দেখতে চাই। উনি যা বলেন, সে কথা রাখেন। তরাই, ডুয়ার্সের উন্নতির জন্য আমরা প্রাণপণ পরিশ্রম করব। ২০২১–‌এর ভোটে বিজেপি–‌কে বাংলার মানুষ জবাব দেবে।’‌
এদিন গুরুংয়ের সঙ্গে এসেছিলেন দীর্ঘদিনের সঙ্গী রোশন গিরি।
বুধবার দুপুরে দীর্ঘ অজ্ঞাতবাসের পর ঝাড়খণ্ডের নম্বর প্লেট দেওয়া একটি গাড়িতে সল্টলেকের গোর্খা ভবনে চলে আসেন বিমল গুরুং। প্রথমে জানা গিয়েছিল, সেখানে সাংবাদিক বৈঠক হবে। কিন্তু গোর্খা ভবনে তাঁকে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। গুরুংয়ের সঙ্গে ছিলেন জনা পনেরো অনুগামী। গোর্খা ভবন থেকে এরপর তাঁর গাড়ি বাইপাস ধরে ছুটতে থাকে। কোথায় যাচ্ছেন, জানা সম্ভব ছিল না। বাইপাস ধরে মা উড়ালপুল দিয়ে তাঁর গাড়ি সোজা এসে দাঁড়ায় ললিত গ্রেট ইস্টার্ন হোটেলে। গাড়ি থেকে নেমেই বিমল সটান হোটেলে ঢুকে যান। বাইরে তখন সংবাদ মাধ্যমের ভিড়।
কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর হেটেলের তিনতলায় সাংবাদিকদের ডেকে নেন তিনি। সাদা–‌কালো প্রিন্টেড শার্ট। কপালে লাল টিপ পরা বিমল গুরুং রোশন গিরিকে পাশে বসিয়ে বলেন, ‘‌আগে আমার কথাগুলো বলে নিই। তারপর আপনাদের প্রশ্নের জবাব দেব।’‌ বিমল বললেন, ‘‌আমাদের গোর্খাল্যান্ডের দাবি রয়েছে। গোর্খাল্যান্ডকে যারা সমর্থন করবে, আমরা তাদের সমর্থন করব। বিজেপি–‌কে আমরা সমর্থন করেছিলাম। কিন্তু আর কতদিন?‌ নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ যা বলেন, তা করেন না। আমাদের কোনও দাবি পূরণ হয়নি। বিজেপি খালি বলে, করব। আমি ৩ বছর ধরে লক্ষ্য করেছি, কেন্দ্র কী করছে। কথা রাখেনি। কিন্তু পাহাড়ের উন্নতির জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি যা বলেছেন তা–‌ই করেছেন। আগামী নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে আমরা জোটে যেতে চাই। বিজেপি–‌কে জবাব দিতে হবে।’‌ তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তৃণমূলের কোনও নেতার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে কি না। উত্তরে বিমল বলেন, ‘‌এখনও কোনও কথা হয়নি। আমি আমার কথা বলতে এসেছি।’‌ ৩ বছর আপনি কোথায় ছিলেন?‌ কৌশলী বিমল গুরুং বলেন, ‘‌আমি তো অপরাধী নই, দেশদ্রোহী নই। আমি রাজনৈতিক সমাধান চাই।’‌ তাঁকে আবার প্রশ্ন করা হয়, এতদিন আপনি কোথায় ছিলেন। এবার বিমল বলেন, ‘‌আমি দিল্লিতেই ছিলাম। গত দু’‌মাস ঝাড়খণ্ডে ছিলাম।’‌ আপনার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, লুকআউট নোটিস রয়েছে। 
উত্তরে বলেন, ‘‌আজ আমি গ্রেপ্তার হলেও খুশি। ১০–‌১৫ দিন আছি।’‌

 

গত ৩ বছর আগে বিমল গুরুং উধাও হয়ে যাওয়ার পরেই গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনে ভাঁটা পড়ে। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাতেও ভাঙন ধরে। তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী বিনয় তামাং, অনীত থাপারা সঙ্গ ত্যাগ করেন। কিন্তু থেকে যান রোশন গিরি। এরপর গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন তৈরি হলে, প্রধানের দায়িত্ব পান বিনয় তামাং। এদিন অবশ্য বিমল গুরুং কথার মাঝখানেই বলে রেখেছেন, ‘‌২০২৪–‌এর নির্বাচনে যারা আমাদের দাবিকে সমর্থন করবে, আমরা তাদের সঙ্গে আছি।’‌ এর পরই আর কোনও প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তাড়াহুড়ো করে লিফটে উঠে যান বিমল গুরুং।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top