সৌরভ নন্দী:‌ ‘‌ভীষণ খামখেয়ালি ছিলেন মারাদোনা। বছর তিনেক আগে এসেছিলেন শহরে। তখন অনেকটা সময় কাটিয়েছিলাম ওনার সঙ্গে। অদ্ভুতভাবে আমাকে ভীষণ পছন্দ করতেন’, আজকাল ডিজিটালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানালেন রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। ‌
২০১৭ সালে ডিসেম্বর নাগাদ দ্বিতীয়বার কলকাতায় পা রেখেছিলেন ‘ফুটবলের বাহুবলী’। ডান হাতে ধরা ট্র‌্যাকসুটের আপারটা মাথার ওপর বনবন করে ঘোরাতে ঘোরাতে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের মঞ্চে উঠেছিলেন মারাদোনা। চারিদিক থেকে তখন ‘‌দিয়েগো, দিয়েগো’‌ জয়ধ্বনি, অভিভূত হয়েছিলেন ফুটবলের ভগবান। অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন শ্রীভূমির কর্ণধার ‌বিধায়ক সুজিত বসু। মারাদোনার সঙ্গে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে বলতে গিয়ে সুজিতবাবু বলেন, ‘‌’‌৮৬–র বিশ্বকাপ দেখার পর থেকেই আমি মারাদোনার ফ্যান। নিজে ব্রাজিলের সমর্থক হয়েও মারাদোনার ফ্যান। অদ্ভুত প্রকৃতির ছিলেন। কলকাতা বিমানবন্দরে নেমেই ওনার মেজাজটা একটু বিগড়ে গিয়েছিল। ইমিগ্রেশন নিয়ে কিছু একটা সমস্যা হয়েছিল। কিন্তু পরদিন যখন আমার ক্লাবে এলেন, তখন একেবারে অন্য মানুষ। ভিআইপি রোডের মূর্তিটা মারাদোনা নিজের হাতেই উদ্বোধন করেছিলেন। ৫০ জন ক্যানসান রোগীকে সাহায্য করেছিলাম ওনার হাত দিয়ে। পরদিন বারাসাত স্টেডিয়ামে খেলা ছিল। আমি মারাদোনার দলেই ছিলাম। দু’‌জনে জার্সি পরে ড্রেসিংরুমে একসঙ্গে ছিলাম। দু’‌জন দু’‌জনের ভাষা জানি না, কিন্তু কোনও একটা কারণে উনি আমাকে ভীষণ পছন্দ করেছিলেন। ভিড়ভাট্টা পছন্দ করতেন না। অন্য কেউ ঘরে ঢুকলেই বেরিয়ে যেতে বলতেন। শুধু আমাকে ডেকে নিতেন। বারাসাতের মাঠে সেদিন ম্যাচটা হয়নি। তবে বাচ্চাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ খেলেছিলেন। ফুটবলে সই করে দিচ্ছিলেন। সৌরভের সঙ্গেও সময় কাটিয়েছিলেন। মারাদোনার সঙ্গে ওইটুকু সময় কাটিয়ে মনে হয়েছে, মানুষটা ভীষণই ভাল এবং বড্ড খামখেয়ালি।’‌
সেবার গোটা অনুষ্ঠানে মজে গিয়ে আবেগ জড়ানো গলায় মারাদোনা বলেছিলেন, ‘আমি ফুটবলের ভগবান নই। একজন সাধারণ মানুষ। দ্বিতীয়বার কলকাতায় আসতে পেরে খুশি। আপনাদের এই অভ্যর্থনায় অভিভূত। কখনও ভাবিনি কলকাতায় আমার মূর্তি বসবে। দুর্দান্ত ব্যাপার। কোনও দিন ভুলতে পারব না এই দিনটা।’‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top