আজকালের প্রতিবেদন
এই কোভিড পরিস্থিতির মধ্যেও পুজোর অনেক আগেই নাগরিকদের ঝকঝকে শহর উপহার দিতে চলেছে কলকাতা পুরসভা। রাস্তা সারিয়ে আলো দিয়ে সাজিয়ে তোলা হবে তিলোত্তমাকে। শহরের কোথায়, কী সমস্যা রয়েছে, জানতে প্রাক্‌ পুজো বৈঠকে বসেন পুরসভার প্রধান প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। শুক্রবার রক্সি সিনেমা হলে ১৪৪ ওয়ার্ডের কো–‌অর্ডিনেটরদের নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ওয়ার্ড কো–‌অর্ডিনেটররা নিজের নিজের ওয়ার্ডের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। পানীয় জল, নিকাশি, জমা জলের মতো সমস্যা ছাড়াও সবথেকে বেশি অভিযোগ আসে রাস্তা নিয়ে। পুজোর অনেক আগেই রাস্তা সারিয়ে, আলো দিয়ে ঝকঝকে তকতকে করে ফেলার নির্দেশ দেন পুরসভার প্রধান প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। তিনি জানান, এবছর একটার পর একটা বিপর্যয় চলছে। করোনার মতো মহামারী। আমফানের আগে ও পরে একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শহর। তছনছ করে দিয়ে গেছে শহরকে এই ঝড়। পুরসভা লাগাতার কাজ করে সেই শহরকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে এনেছে। এখনও বেশ কয়েকটি জায়গায় রাস্তা খারাপের যে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলির কোথাও কেইআইপি, কোথাও বন্দরের কাজ চলছে। বেসরকারি সংস্থার কাজের জন্য রাস্তা খোঁড়া হয়েছে। সেইসব রাস্তা ওইসব সংস্থাকে দ্রুত সারিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাস্তার পর জরুরি বিষয় আলো। ঝড়ে ভেঙে পড়া ত্রিফলা বাতিস্তম্ভ কিছু জায়গায় পড়ে আছে। সেগুলি সরিয়ে ফেলতে হবে। পুজোর আগে নতুন বাতিস্তম্ভ বসিয়ে ফেলা হবে। আলো দিয়ে সাজিয়ে ফেলা হবে শহরকে। কয়েকটি ওয়ার্ডে পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। এখনও যাদবপুর, টালিগঞ্জের কিছু কিছু জায়গা রয়েছে। সেখানকার সমস্যা ৫০ বছরের। এই সমস্যা সমাধানে পুরসভা একটি পরিকল্পনা নিয়েছে। জয়হিন্দ জল প্রকল্পে আরও ২০ মিলিয়ন গ্যালন ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্পিং স্টেশন করা হবে। 
যাদবপুর ঢালাই ব্রিজের কাছে ১০ মিলিয়ন গ্যালন ক্ষমতাসম্পন্ন আরও পাম্পিং স্টেশন করা হবে। এছাড়া আরও কিছু বুস্টার পাম্পিং স্টেশন তৈরি করা হবে। এই পরিকল্পনা কার্যকর করলে জল সমস্যা অনেকটা মিটবে। কিন্তু একসঙ্গে এতগুলো কাজ করার জন্য টাকার দরকার। ওই এলাকায় জলের সমস্যা সম্পূর্ণ মিটতে কিছুটা সময় লাগবে। জমা জলের সমস্যা সমাধানে কাজ করে চলেছে নিকাশি দপ্তর। আর মধ্য কলকাতার জমা জলের সমস্যা সমাধানে পুরসভা একটি পরিকল্পনা নিয়েছে। খিদিরপুরের কাছে 
এখন আর জমা জলের সমস্যা নেই। আগামী দিনে মধ্য কলকাতার জল জমার অপবাদও ঘুচে যাবে। তবে পুরো পরিকল্পনা কার্যকর করতে বছরখানেক সময় লাগবে। 
এদিন ছট পুজো নিয়ে প্রশ্নে ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, ধর্মীয় আবেগকে নিয়ে রাজনীতি করা ঠিক নয়। কিছু মানুষ এসে পুজোর কথা জানিয়েছেন। এটা একটা ‘‌পরম্পরা’‌ চলে আসছে। সেটা কিছু মানুষের রাজনীতির জন্য তো বন্ধ করে দেওয়া যায় না। এখানে সরকারকে বিপাকে ফেলতেই এধরনের মন্তব্য করে চলেছে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top