প্রিয়দর্শী বন্দ্যোপাধ্যায় 
রবিনসন স্ট্রিট কাণ্ডের ছায়া এবার হাওড়ার বেলুড়ে। দুই অশীতিপর ভাই–বোনের মৃতদেহ ঘরের মধ্যেই ৭–৮ দিন ধরে আগলে বসেছিলেন তাঁদেরই ছোট বোন। বেলুড় থানার লালাবাবু শায়র রোডের ঘটনা। বুধবার বিকেলে পুলিশ দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে উদ্ধার করে দু’‌জনের মৃতদেহ। সেই সঙ্গে তাঁদের ছোট বোনকে হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ জানায়, মৃতেরা হলেন দাদা মনোরঞ্জন সেন (৭৮) ও বোন রত্না সেন (৭৩)। রত্নার দেহ দোতলায় ঘরের মেঝেতে, আর মনোরঞ্জনের দেহ পড়ে ছিল দোতলারই বারান্দায়। দু’‌টি দেহেই পচন ধরে গিয়েছিল। দেহ দুটি আগলে ঘরে বিছানায় শুয়েছিলেন তাঁদের ছোট বোন অনিতা সেন (৬৫)। তাঁর কথাবার্তায় বিস্তর অসঙ্গতি ছিল। তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। জানা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী মনোরঞ্জনবাবু ও তাঁর দুই বোন ৫ নম্বর লালাবাবু শায়র রোডের ওই দোতলা বাড়িতে থাকতেন। কিছুদিন আগে বাড়ির সামনেই মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন। পুলিশ তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। তাঁর ভাগনে দেবেশ্বর দে জানান, ‘মামা পড়ে যাওয়ার পর তাঁকে দেখে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারপর থেকে আর যোগাযোগ ছিল না।’ স্থানীয় বাসিন্দা প্রদ্যুৎ ঘোষ জানান, ‘ওঁরা পাড়ায় খুব একটা মেলামেশা করতেন না। ৭–৮ দিন বেরোতেও দেখা যায়নি। তবে সন্ধের পর বাড়িতে আলো জ্বলতে দেখা যেত। এদিন এলাকায় প্রচুর দুর্গন্ধ পেয়ে আমরা পুলিশে খবর দিই।’‌
হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা জানান, ‘দেহ দুটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে কীভাবে তাঁদের মৃত্যু হয়েছিল তা জানা যাবে। তবে অন্তত ৭–৮ দিন আগে দু’‌জনই মারা গেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। ছোট বোন সুস্থ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তখন বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।’

জনপ্রিয়

Back To Top