কাকলি মুখোপাধ্যায়
শহরের বাজারগুলিতে পুলিশি তৎপরতা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুরসভা। বাজারে ভিড় নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে বন্ধ রাখার পরিকল্পনা পুর কর্তৃপক্ষের। 
করোনা সংক্রমণের সম্ভাব্য এলাকাগুলির মধ্যে বাজার অন্যতম। কিন্তু শহরের বাজারে ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুলিশি সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনই অভিযোগ উঠেছে বরো এবং ওয়ার্ড কো–‌অর্ডিনেটর–‌সহ সাধারণ নাগরিকদের থেকে। সম্প্রতি বরো কো–‌অর্ডিনেটরদের সঙ্গে বৈঠকে এই অভিযোগ পুর প্রধান প্রশাসক ফিরহাদ হাকিমের কাছেও জানানো হয়। এবিষয়ে প্রধান প্রশাসক পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ যদি বাজারে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ঠিকমতো করতে না পারে তাহলে বাজার বন্ধ রাখার কথা ভাবতে হতে পারে পুর প্রশাসনকে। পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, এনিয়ে প্রধান প্রশাসক কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মার সঙ্গেও কথা বলেন। পুলিশের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বাজার ও সংক্রমিত এলাকা আরও কড়া হাতে সামলানোর নির্দেশ দেন।  পুর আধিকারিকদের একাংশের বক্তব্য, বাজার এবং কন্টেনমেন্ট জোনে পুলিশি তৎপরতা নিয়ে অভিযোগ আসছে। লকডাউনে কলকাতা পুলিশের ভূমিকা প্রশংসনীয়। কিন্তু বাজারে ভিড় নিয়ন্ত্রণে সেভাবে পাওয়া যাচ্ছে না পুলিশের সহযোগিতা। এমন অভিযোগ বরো এবং ওয়ার্ড কো–‌অর্ডিনেটরদের থেকেও এসেছে। বাজারগুলিতে হাতে গোনা ১–২ জন পুলিশকর্মী পাহারায় থাকছেন। একই ছবি দেখা যাচ্ছে কন্টেনমেন্ট জোনগুলিতে। স্থানীয় থানাকে জানানোর পরও সেভাবে তৎপরতা চোখে পড়ছে না। কোনও কোনও বাজারে তো নিয়মিত পুলিশি পাহারাও থাকছে না। এর ফলে বাজারে অসচেতন মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে লকডাউনের আগের ও পরের দিন। বাজারের এই ভিড় রীতিমতো চিন্তায় ফেলেছে পুর কর্তৃপক্ষকে। সম্প্রতি পুরভবনে ভিডিও কনফারেন্সে সব বরো এবং ওয়ার্ড কো–‌অর্ডিনেটরদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন পুর প্রধান প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। সেখানে উত্তর কলকাতার এক বরো কো–‌অর্ডিনেটর সরাসরি পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। অভিযোগ জানিয়েছেন ওয়ার্ড কো–‌অর্ডিনেটররাও। তাঁদের অভিযোগ, বাজার ও সংক্রমিত এলাকায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা উদ্বেগে ফেলেছে। মানুষ বেপরোয়া হয়ে বাজারে মাস্ক ছাড়াই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সামাজিক দূরত্ব বিধি লঙ্ঘন করছেন। স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।‌

জনপ্রিয়

Back To Top