দীপঙ্কর নন্দী
‘‌কেন্দ্রে ফ্যাসিস্ট সরকার চলছে। এরা স্বৈরতান্ত্রিক, হিটলারি মনোভাব নিয়ে কাজ করছে। গায়ের জোরে কৃষি বিল পাশ করানো হল। শ্রমিক আইনও বদলে দিচ্ছে। গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে শুধু সংসদেই নয়, পথেও নামতে হবে।’‌
সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এভাবেই কৃষি বিলের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন। আজ, মঙ্গলবার তৃণমূল মহিলা কংগ্রেস মেয়ো রোডে গান্ধীমূর্তির নীচে অবস্থান করবে। বুধবার, কৃষি বিলের প্রতিবাদে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ কলেজ স্ট্রিট থেকে মেয়ো রোড পর্যন্ত মিছিল করবে। বৃহস্পতিবার, রাজ্য জুড়ে তৃণমূলের কিসান খেতমজদুর সংগঠন প্রতিবাদ করবে।
ক্ষোভের সঙ্গে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌১৯৪৩ সালে মন্বন্তর হয়েছিল, দুর্ভিক্ষ হয়। ঠিক একইভাবে এবার দেশ দুর্ভিক্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিজেপি দলটা ভয়ঙ্কর। দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করছে। রাজ্যসভায় কৃষি বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ৮ জন সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ওদিকে সিপিএম–এর সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিকেও চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। আমাদের সঙ্গে ওঁদের আদর্শগত বিরোধ থাকলেও বলছি, যারা দাঙ্গা করেছিল তাদের কেন চার্জশিট দেওয়া হল না?‌’‌
কৃষি বিল এবং শ্রমিক বিল নিয়ে দেশের সব রাজনৈতিক দলকে জোট বাঁধার আহ্বান জানান মমতা। তিনি বলেন, ‘‌দিল্লিতে আমাদের সাংসদরা সোমবার সকাল থেকে সংসদের বাইরে গান্ধীমূর্তির নীচে অবস্থান করছেন, তাঁরা সারা রাত থাকবেন।’‌
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌রবিবারই কৃষি বিল পাস করানো হল। ভোটাভুটি করতে দেওয়া হয়নি। বিজেপি–‌র উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যা কম ছিল, তবু বিল পাস করানো হয়েছে। কল–‌কারখানায় ৩০০ জন শ্রমিক থাকলেই ছাঁটাই করার আইন আনা হচ্ছে। শ্রমিকদের বজ্রাঘাত, কৃষকদের প্রত্যাঘাত। কেন্দ্রীয় সরকার কৃষকদের প্রতি দরদ দেখাতে চাইছে, এতই যদি দরদ থাকে তাহলে কৃষি বিল কেন পাস করানো হল?‌ কোনও কৃষক মজুরি পাবে না। কেউ আত্মহত্যা করবে। কেউ না খেতে পেয়ে মরবে। এর বিরুদ্ধে জোট বাঁধা প্রয়োজন। তৃণমূল পিছনের সারিতে থাকবে। সামনের সারিতে থাকবে সাধারণ মানুষ। পেছন থেকে কাঁসর ঘণ্টা বাজাব, আর বলব— আর নেই দরকার, ছি ছি বিজেপি সরকার। কেউ যদি জিজ্ঞাসা করে, উলঙ্গ রাজা তোমার কাপড় কোথায়?‌ এরা কী জবাব দেবে?‌ এই সরকারের একটাই লক্ষ্য, মানুষ যেন খেতে না পায়। অন্য কেউ থাকবে না, শুধু থাকবে ওরা।’‌
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌জিএসটি–‌র প্রাপ্য টাকা দেওয়া হচ্ছে না। আমফানের সময়ে কেন্দ্রীয় দল এসে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা নিয়ে গেল, ৩৫ হাজার কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে বলে আমরা জানালাম। এরপর সব চুপচাপ। এখনও পর্যন্ত কিছু এল না। কৃষকরা জমিতে আগামী দিনে চাষই করতে পারবেন না। বাজারে কিছুই পাওয়া যাবে না। কালোবাজারির সরকার, মজুতদারের সরকার আর নেই দরকার। মানুষ যদি খেতে না পায়, তাহলে কিন্তু কেউ সহ্য করবে না। মানুষ ছি ছি করছে। কাউকে কাউকে জমি পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আলু, পেঁয়াজ বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের সমস্ত ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে, ভঁুইফোড় ফড়েদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কোভিড মহামারী দেখছি আমরা, এবার দুর্ভিক্ষের মহামারী আসছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক তরফা মিথ্যে প্রচার করছে। প্রতিবাদ করলে এজেন্সিকে দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। দেশাত্মবোধ কাদের আছে, তা আমরা বিজেপি–‌র কাছ থেকে শিখব না। কৃষি বিল পাশ করানো রবিবারকে আমরা ব্ল্যাক সানডে বলছি।’‌
এদিন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি টুইটে জানান, ‘‌প্রয়াত সুষমা স্বরাজ সংসদে যখন প্রতিবাদ করেন সেই সময় তাঁকে সকলে মিলে সমর্থন করেন। বিজেপি ক্ষমতায় এসে হঠাৎ এই আইনের পরিবর্তন করল কেন?‌ বিজেপি গণতন্ত্রকে হত্যা করছে। এই ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের সাংসদরা ছাড়াও যাঁরা প্রতিবাদ করেছেন, তাঁদের সমর্থন জানাই।’‌
সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি টুইটে জানিয়েছেন, ‘‌রাজ্যসভাকে এই সরকার অবমাননা করেছে। প্রত্যেকেই বলছে, গণতন্ত্রকে বিজেপি ধ্বংস করেছে।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top