মলয় সিন্‌হা
শীত মানেই পিঠে‌পুলি–‌পায়েসের মরশুম। জমিয়ে খাওয়া। ঠাকুমা–দিদিমার স্নেহের পরশ মাখানো সব খাবার। এক সময়ে শীতকালে প্রায় সব বাড়িতেই পিঠেপুলি হত। এখন ভরসা শুধু মিষ্টির দোকান। কিন্তু শীতকালে ছেলেমেয়েরা পিঠে–পাটিসাপটা কিনে খাবে, তা যেন ভাবতেই পারেন না প্রবীণারা। এক সময় কলকাতার যে–‌সব বাড়িতে একান্নবর্তী পরিবার ছিল, তঁাদের পরবর্তী প্রজন্মকে ঘরের প্রবীণারা শিখিয়ে দিতেন শীতের হরেক লোভনীয় খাবার তৈরির কৌশল। যেমন গোকুল পিঠে, ভাপা পিঠে, আস্‌কে পিঠে, সরুচাকলি, গুড় পিঠে, রসবড়া— আরও কত কী। বৃহস্পতিবার সেই স্মৃতিকেই উস্‌কে দিল টালিগঞ্জ পল্লীশ্রী এলাকায় প্রবীণাদের উদ্যোগে আয়োজিত পিঠেপুলি উৎসব। এই উৎসবে নতুন প্রজন্মকে বাংলার ঐতিহ্যপূর্ণ পিঠে–পুলি–পাটিসাপটা তৈরি শেখানের জন্য অভিনব পদক্ষেপ করলেন উদ্যোক্তারা। উৎসবে লোভনীয় খাবারের পাশাপাশি সবার নজরও কাড়ল পিঠেপুলি শিক্ষণ–শিবিরও। পিঠেপুলি উৎসব ও  শিক্ষণ–শিবির সফল করার জন্য প্রবীণাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় টালিগঞ্জ পল্লীশ্রী নবারুণ ক্লাব। পাড়ার ঠাকুমা–দিদিমারা হাতে ধরে নতুন প্রজন্মের নাতনিদের সব জিভে–জল–আনা পদ তৈরি শেখাচ্ছেন।‌ ২৩ জানুয়ারি সকাল থেকে পিঠেপুলি উৎসবে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। নতুন প্রজন্ম ভুলেই যাচ্ছে বাংলার ঐতিহ্য পিঠেপুলির কথা, জানালেন উদ্যোক্তা প্রাক্তন শিক্ষিকা মমতা চক্রবর্তী। তঁার কথায়, ‘নতুন প্রজন্মকেও জানতে হবে বাংলার এই পার্বণ, পিঠেপুলি তৈরির কৌশল। এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে ঐতিহ্যকে।’‌ একই মত মানবীলতা রায়ের। পড়াশোনা ও শিক্ষকতায় ব্যস্ত থাকেন ফাল্গুনী চক্রবর্তী। পিঠেপুলি শিক্ষণ–শিবিরে দেখা গেল বাধ্য ছাত্রীর মতো শিখছেন খাবার তৈরি। তিনি জানালেন, ‘‌দারুণ উদ্যোগ! চলে এলাম শিখতে।’‌ পর্যটন সংস্থার কর্মী শ্রীমন্তী ভদ্র এসেছিলেন উৎসবে পিঠেপুলির স্বাদ নিতে। শিক্ষণ–শিবির দেখে তিনিও এগিয়ে এলেন। শ্রীমন্তী জানালেন, ‘‌গোলাপ পিঠের রেসিপিটা জানতে পারলাম।’‌
টালিগঞ্জ পল্লীশ্রী নবারুণ ক্লাবের সম্পাদক তিমিরবরন রায় জানান, ‘‌এলাকার প্রবীণাদের পিঠেপুলি উৎসব ও শিক্ষণ–শিবিরের উদ্যোগের কথা জানতে পারি। এই অভিনব উদ্যোগে 
আমরা তঁাদের পাশে ছিলাম। প্রথম বর্ষে 
৬টি স্টল হয়েছে।’‌ ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top