আজকালের প্রতিবেদন
কেরোসিন তেল নিয়ে রাজ্যের মানুষের ওপর কেন্দ্রের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক!‌ পেট্রোল–‌ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পর গরিব মানুষের হাতে এ যেন লন্ঠন ধরিয়ে দেওয়ার শামিল‌!‌ 
নিখরচায় খাদ্যশস্য দেওয়ার ঘোষণা করলেও, এক ঝটকায় কেরোসিনের দাম লিটারপিছু ১০ টাকা করে বেড়ে গেল। শতাংশের বিচারে ৫৫%‌। এতে প্রবল ক্ষুব্ধ রেশন ও কেরোসিন ডিলাররা। তঁাদের বক্তব্য, মানুষের আয় নেই। কেন্দ্র এটা বুঝেছিল বলেই তো নভেম্বর পর্যন্ত নিখরচায় খাদ্যশস্য দেওয়ার কথা বলেছে!‌ এর পর কেরোসিনের দাম এতটা বাড়িয়ে দেওয়ার মানে মানুষকে নিয়ে ছেলেখেলা করা। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিপাকে পড়বেন রাজ্যের প্রায় ১০ কোটি মানুষ।
রাজ্যে জুন মাসে কেরোসিনের দাম ছিল লিটারপ্রতি প্রায় ১৮ টাকা। সেটা জুলাই থেকে বেড়ে হল ২৮ টাকা। জঙ্গলমহল, আয়লায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মতো বিশেষ কিছু অঞ্চলের মানুষ মাসে এক লিটার করে কেরোসিন তেল পান। ডিজিটাল রেশন কার্ডে পাওয়া যায় ৬০০ মিলিমিটার তেল। আর পুরনো যে–কার্ড রয়েছে, সেগুলিতে মেলে মাসিক ১৫০ মিলিলিটার তেল। রাজ্যে প্রায় ৯ কোটি ৯০ লক্ষ মানুষ রেশন থেকে কেরোসিন তেল পান। রাজ্যে প্রায় ৩৫ হাজার রেশন ডিলার রয়েছেন। ২০১৭ সাল থেকে ধাপে ধাপে কেরোসিনের দাম বাড়িয়ে গেছে কেন্দ্র। 

প্রতি দু’‌সপ্তাহ অন্তর ২৫ পয়সা বা মাসে ৫০ পয়সা করে দাম বাড়িয়ে গেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেরোসিনের দাম এবং রাজ্যের বরাদ্দ ঠিক করে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। আর মাথাপিছু বণ্টন নির্ধারণ করে রাজ্য সরকার। তেল সংস্থাগুলির কাছ থেকে কেরোসিন কেনেন এজেন্টরা। তাঁরা তা বিক্রি করেন কেরোসিন ডিলারদের কাছে। জ্বালানির দাম বিপুল বেড়ে যাওয়ায় অনেকে আশঙ্কা করছেন, এর ফলে মানুষ গাছের শুকনো ডালপালা দিয়ে রান্না করতে বাধ্য হবেন। বাড়বে পরিবেশ দূষণ।
বৃহস্পতিবার অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, ‘‌ধিক্কার জানাই। এই সিদ্ধান্তের ফলে মানুষ মারা পড়বেন। তাঁরা জ্বালানি কোথা থেকে জোগাড় করবেন?‌’‌ পশ্চিমবঙ্গ কেরোসিন ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অশোক গুপ্ত বলেন, ‘‌এ তো নির্মম রসিকতা!‌ মানুষের কাছে টাকা নেই, অনেকে কাজ হারিয়েছেন বুঝেই তো কেন্দ্র নিখরচায় রেশন দেওয়ার কথা বলেছিল। আর এখন কেরোসিনের দাম এতটা বাড়িয়ে দিল!‌ মানুষ বাধ্য হয়ে কাঠ জ্বালিয়ে রান্না করবেন।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top