আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আইন–শৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে বাংলায়। পুলিশের মাধ্যমে শাসন চালাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। খুন, রাজনৈতিক হানাহানি এখন রোজকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্যে। রাজনৈতিক কর্মীদের মতো আচরণ করছেন প্রশাসনিক কর্তারা। মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। গণতন্ত্র মাটিতে মিশেছে। চিঠি লিখেও প্রশাসনের তরফে কোনও উত্তর পাচ্ছিনা। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করে সাংবাদিক সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক দাবি করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। 
আগামী বছরেই রাজ্যে বিধানসভা ভোট। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে আদৌ সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্ভব কিনা, সে বিষয় নিয়ে তিনি অমিত শাহের সঙ্গে কথা বলেছেন। 
সংবাদমাধ্যমের সামনে রাজ্যপাল বলেন, ‘‌রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা চলছে আর ওদিকে প্রশাসন ঘুমিয়ে আছে। আমি উন্নতিতে বিশ্বাস করি, যা কাজের মাধ্যমেই সম্ভব। দেশের সংবাদমাধ্যমের জানা উচিত পশ্চিমবঙ্গের কথা।’‌ 

রাজ্যপালের সাংবাদিক বৈঠক প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, ‘‌রাজ্যপাল সংবিধানের রক্ষক। গণতন্ত্র, আইন–শৃঙ্খলা ও রাজ্যের শান্তির দিকে তাকিয়ে তিনি যা বলেছেন তা ১০০% সত্যি। তাঁর মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক হওয়ার কথা নয়। রাজ্যপাল সাধারণ মানুষের মুখপাত্র, কোনও রাজনৈতিক দলের নন।’‌ 
পাল্টা কটাক্ষ করে তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‌রাজ্যপাল যেভাবে রাজনৈতিক মুখপাত্র হয়ে উঠেছেন, তাতে সবার মধ্যেই সন্দেহ জাগছে, তাঁর আসল উদ্দেশ্যটা কী?‌ বাংলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মন্তব্য করার আগে দেখা উচিত উত্তরপ্রদেশের অবস্থা কী‌!‌ গণতন্ত্র উত্তরপ্রদেশ লঙ্ঘিত হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন আছে বলেই এখানে গণতন্ত্র বেঁচে আছে। উনি কেন উদ্বিগ্ন জানিনা। আমরা আসলে উদ্বিগ্ন ওনার এই আচরণ দেখে। উনি যেভাবে প্রত্যেকদিন রাজ্যপালের পদটিকে, তার গরিমাকে কলুষিত করছেন, তাতে আমরা উদ্বিগ্ন যে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে তিনি একটি জনপ্রিয় নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে প্রত্যেকদিন সংবাদমাধ্যমে যাচ্ছেন এবং প্রচার–সর্বস্ব রাজ্যপাল হচ্ছেন।’‌ 
এ বিষয়ে কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, ‘‌রাজ্যপালের উচিত ছিল রিপোর্ট দেওয়ার আগে তার মর্মার্থ রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব, মুখ্যসচিব ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা। তা করা হয়েছিল কিনা, তা জানা নেই। তবে রাজ্যপালের মতামত পক্ষপাত দুষ্ট হওয়া উচিত নয়। নিজের আওতার বাইরে গিয়ে রাজ্যপালের মন্তব্য করার সাংবিধানিক নয়।’‌ সিপিএম নেতা শমীক লাহিড়ী বলেন, ‘‌তিনি রাজনৈতিক কাজ করছেন রাজ্যপাল তার পদের মর্যাদা করতে জানেন না।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top